সিরিয়ায় সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা সত্ত্বেও দক্ষিণাঞ্চলের সুওয়েইদা প্রদেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা থামছে না। সংখ্যালঘু দ্রুজ সম্প্রদায় ও সশস্ত্র বেদুইনদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হস্তক্ষেপের পরও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।
গত সপ্তাহে সিরিয়ার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন এবং একইসঙ্গে সরকারি বাহিনী মোতায়েন করেন। কিন্তু স্থানীয় সূত্র ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, সেই বাহিনীর সদস্যদেরই অনেকে দ্রুজ সম্প্রদায়ের ওপর হামলায় অংশ নিয়েছে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, সংঘাতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৯৪০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। জাতিসংঘ জানিয়েছে, হত্যা, নিপীড়ন এবং লুটপাটসহ গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তাদের কাছে পৌঁছেছে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা যায়, সংঘর্ষের সূচনা ঘটে এক দ্রুজ ব্যবসায়ীকে অপহরণের ঘটনার পর। এরপর দ্রুজ ও বেদুইনদের মধ্যে বহু পুরনো উত্তেজনা ভয়াবহ সহিংসতায় রূপ নেয়। দোকানপাট লুট, অগ্নিসংযোগ ও রাস্তায় গুলি বর্ষণের ঘটনা ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি করেছে।
ইসরায়েল সরকার তাদের নিজ দেশের দ্রুজ জনগোষ্ঠীর প্রতি সংহতি জানিয়ে সিরিয়ার দ্রুজদের রক্ষায় সামরিক হস্তক্ষেপ করেছে। তারা সরকারি বাহিনী এবং দামেস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে বিমান হামলা চালায়। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেছেন, "সিরিয়ার দ্রুজদের রক্ষায় আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।"
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন, তিনি সংখ্যালঘুসহ দেশের সব জনগণের সুরক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ। তবে জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার টুর্ক বলেছেন, সরকারকে কেবল আশ্বাস নয়, বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হলেও শহরের ভেতরে এখনো গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার চেকপয়েন্ট বসালেও সহিংসতা পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংঘাত শুধু একটি জাতিগোষ্ঠী নয়, বরং সমগ্র সিরিয়ার স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে উঠছে।
