ইসরাইলের সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের এক গোপন তথ্য ফাঁস হয়ে বড় ধাক্কা দিয়েছে। সেই নথি বলছে, গাজা থেকে আটক ফিলিস্তিনিদের মধ্যে মাত্র এক-চতুর্থাংশকে যোদ্ধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাকি বিশাল সংখ্যক মানুষ আসলে সাধারণ নাগরিক—যাদের কোনো অভিযোগ বা বিচার ছাড়াই আটকে রাখা হয়েছে অমানবিক কারাগারে। এ তথ্য প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান।
তদন্তে উঠে এসেছে, আটক হওয়া মানুষদের মধ্যে আছেন চিকিৎসক, শিক্ষক, সরকারি কর্মচারী, সাংবাদিক, লেখক, এমনকি অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী মানুষও। ভয়াবহ এক ঘটনায় দেখা যায়, আলজেইমার আক্রান্ত ৮২ বছরের এক বৃদ্ধা নারীকে ছয় সপ্তাহ কারাগারে আটকে রাখা হয়েছিল। আবার এক মাকে তার সন্তানদের থেকে আলাদা করে রাখা হয়। মুক্তি পাওয়ার পর তিনি দেখেন, তার শিশুরা রাস্তায় ভিক্ষা করছে।
এক সেনা সদস্য জানিয়েছেন, স্দে তেইমান সামরিক ঘাঁটিতে এত বেশি বৃদ্ধ, অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী ফিলিস্তিনি আটক ছিল যে তাদের জন্য আলাদা জায়গা বানাতে হয়েছে। সেই জায়গার নাম দেওয়া হয়েছিল ‘বার্ধক্য শিবির’।
এই তথ্য প্রকাশ করেছে দ্য গার্ডিয়ান, ইসরাইলি-ফিলিস্তিনি পত্রিকা ৯৭২ ম্যাগাজিন এবং হিব্রু ভাষার স্থানীয় মাধ্যম কল-এর যৌথ অনুসন্ধান দল। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইলি সেনারা ৪৭ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনির একটি তালিকা করেছে। এ বছরের মে মাস পর্যন্ত ওই তালিকায় আটক ব্যক্তির সংখ্যা ছিল ১,৪৫০ জন। কিন্তু ৭ অক্টোবর ২০২৩ থেকে গাজা থেকে আটক হওয়া সব ফিলিস্তিনির মধ্যে যোদ্ধা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে মাত্র এক-চতুর্থাংশ। অথচ একই সময়ে ইসরাইলি হিসাবেই ৬,০০০ মানুষকে ‘অবৈধ যোদ্ধা’ আইন অনুযায়ী আটক রাখা হয়েছিল।
ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংগঠন আল মেজান সেন্টারের সামির জাকুত বলছেন, আসলে সাধারণ মানুষের অনুপাত ইসরাইলি তথ্যের চেয়েও অনেক বেশি। হয়তো প্রতি ছয়-সাত জনের মধ্যে একজনের কোনোভাবে হামাসের সঙ্গে সম্পর্ক থাকতে পারে, তবে তা সামরিক নয়।
আটকদের মধ্যে আছেন ৮২ বছরের ফাহামিয়া আল-খালিদি। তাকে তার পরিচর্যাকারীসহ তুলে নিয়ে যাওয়া হয় এবং ছয় সপ্তাহ আটক রাখা হয়। এক সামরিক চিকিৎসক বলেন, এই বৃদ্ধাকে ‘অবৈধ যোদ্ধা’ বলা নিছক পাগলামি। তিনি আরও জানান, আটক থাকা অবস্থায় তিনি এক গর্ভপাত হওয়া নারী এবং এক শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো মায়ের চিকিৎসা দিয়েছেন, যিনি নিজের সন্তান থেকে জোর করে আলাদা ছিলেন।
