মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীকে সহযোগিতা করার অভিযোগে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের পাঁচটি দেশের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে ইরান। এই দেশগুলো হলো সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার এবং জর্ডান।
মঙ্গলবার জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রেসিডেন্ট জামাল ফারেস আলরোয়াইকে পাঠানো এক চিঠিতে এই ক্ষতিপূরণের দাবি জানান জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, এই পাঁচ দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সহযোগিতা করে আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন করেছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, “যেহেতু তারা আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে সহযোগিতা করেছে, তাই এই যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির দায় তাদের ওপরও বর্তায়। এ কারণে ইরানের সরকার এই পাঁচ রাষ্ট্রের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ চাইছে।”
তবে এখন পর্যন্ত জাতিসংঘ মহাসচিব বা নিরাপত্তা পরিষদের প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকে এই চিঠির কোনো জবাব দেওয়া হয়নি।
ইরানের পরমাণু প্রকল্প এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘ দুই দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলছে। এই দুই ইস্যুতে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সংলাপ হয়। তবে ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো সমঝোতা ছাড়াই সেই আলোচনা শেষ হয়।
এরপরের দিন, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও।
সংঘাতের প্রথম দিনেই নিহত হন আয়াতুল্লাহ খামেনি, যিনি টানা ৩৭ বছর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন। এছাড়া ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকারের আরও বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিহত হন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় মুখপাত্র ফাতেমেহে মোহাজেরানি দেশটির আধাসরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজকে জানিয়েছেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ইরানের অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি ডলার।
