ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির ক্ষেত্রে আরব রাষ্ট্রগুলোর পক্ষ থেকে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে এক বৈঠকে তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান আরব মিত্ররা ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি না দিলে ইরানের সঙ্গে চুক্তি এগিয়ে নেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে ভাবতে পারে। এ বক্তব্যকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির প্রশ্নে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। বুধবার ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান আরব অংশীদাররা যদি ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না দেয়, তবে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি বা পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থান পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন হতে পারে।
ট্রাম্পের বক্তব্যে সৌদি আরব, কাতার এবং কুয়েতের মতো প্রভাবশালী আরব রাষ্ট্রগুলোর প্রসঙ্গ উঠে আসে। তিনি মনে করেন, এসব দেশের উচিত ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের উদ্যোগে যুক্ত হওয়া। এ প্রসঙ্গে তিনি পূর্বে স্বাক্ষরিত আব্রাহাম চুক্তির কথাও উল্লেখ করেন, যার মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন এবং পরে মরক্কো ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেছিল।
তবে ইরানের সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রে এটি আনুষ্ঠানিক পূর্বশর্ত কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সরাসরি কোনো অবস্থান স্পষ্ট করেননি। তিনি বলেন, বিষয়টিকে তিনি আনুষ্ঠানিক শর্ত হিসেবে বর্ণনা করতে চান না, তবে বিভিন্ন কূটনৈতিক বিষয় পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতিতে নতুন জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। কারণ ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য নিরাপত্তা বা পারমাণবিক সমঝোতার বিষয়কে ইসরায়েলের কূটনৈতিক স্বীকৃতির প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত করলে আঞ্চলিক আলোচনার পরিধি আরও বিস্তৃত ও জটিল হয়ে উঠতে পারে। সমালোচকদের একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার কথা বললেও বাস্তবে তাদের নীতিতে ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক স্বার্থকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের মতে, ফিলিস্তিন প্রশ্নের স্থায়ী সমাধান, দখলকৃত ভূখণ্ডের বিরোধ এবং মানবাধিকার সংক্রান্ত উদ্বেগগুলো সমান গুরুত্ব না পেলে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা কঠিন হয়ে পড়বে।
অন্যদিকে ইসরায়েলের নীতিরও ব্যাপক আন্তর্জাতিক সমালোচনা রয়েছে। ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে সামরিক অভিযান, বসতি সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে দেশটি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনার মুখে পড়েছে। সমালোচকদের মতে, এসব মৌলিক প্রশ্নের সমাধান ছাড়া কেবল কূটনৈতিক স্বীকৃতিকে অগ্রাধিকার দিলে আঞ্চলিক অসন্তোষ আরও বাড়তে পারে।
এদিকে একই দিনে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে সম্ভাব্য একটি চুক্তির খসড়া সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেখানে দাবি করা হয়, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী আন্তর্জাতিক জাহাজের ব্যবস্থাপনায় ইরানের বিশেষ ভূমিকার প্রস্তাব রয়েছে। তবে হোয়াইট হাউস ওই প্রতিবেদনকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
চুক্তি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করলেও ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানান, যুক্তরাষ্ট্র কেবল এমন সমঝোতাই গ্রহণ করবে যা তাদের দৃষ্টিতে সর্বোচ্চ কৌশলগত ও নিরাপত্তাগত স্বার্থ নিশ্চিত করবে। তিনি বলেন, সাধারণ কোনো সমঝোতা নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সর্বোত্তম চুক্তিই তাদের লক্ষ্য। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, কূটনৈতিক সমাধান ব্যর্থ হলে বিকল্প পথও বিবেচনায় থাকতে পারে।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইরান, আরব রাষ্ট্রসমূহ এবং ইসরায়েলকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের এই শর্তযুক্ত কূটনৈতিক অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেবে নাকি নতুন উত্তেজনার জন্ম দেবে, সেটিই এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনের প্রধান আলোচ্য বিষয়।
কাতার ইহুদি জাতির শত্রু ও কানাডা ইহুদিবিদ্বেষের চারণভূমি: ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতের বিতর্কিত মন্তব্য
