রাশিয়ার নোভরোসিস্ক শহরের কাছে কেজাখ তেল বহনকারী বিদেশি পতাকাবাহী ট্যাঙ্কারগুলোর ওপর ড্রোন হামলার দায় ইউক্রেনের ওপর চাপিয়েছে মস্কো। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আরটি (RT) জানিয়েছে, রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা সোমবার এক বিবৃতিতে এই অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, এটি কাসপিয়ান পাইপলাইন কনসোর্টিয়ামের (CPC) বেসামরিক অবকাঠামোর বিরুদ্ধে পঞ্চম হামলা।
জাখারোভা জানান, গত ১৭ থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত নোভরোসিস্কের সমুদ্রবন্দর এলাকায় তেল লোডিংয়ের সময় লিবেরিয়া ও মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকা বহনকারী বেশ কয়েকটি ট্যাঙ্কার বিশেষভাবে লক্ষ্যবস্তু হয়। এই ট্যাঙ্কারগুলো কেজাখস্তানের তেঙ্গিজচেভ্রয়েল ও কাজমুনায়গ্যাস কর্তৃক ভাড়া নেওয়া ছিল। তিনি ইউক্রেনের বর্তমান শাসনকে ‘কিভের নাজি শাসন’ বলে অভিহিত করে বলেন, ইউক্রেনীয় বাহিনী কনসোর্টিয়ামের ওপর অপরিবর্তনীয় ক্ষতি সাধনের চেষ্টা করছে।
ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুইটি ট্যাঙ্কার, এশিয়া এবং নিসসোস, রবিবার তেল লোড করার সময় হামলার শিকার হয়। এশিয়া ট্যাঙ্কারে অগ্নিকাণ্ড ঘটে যা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়, তবে উভয় জাহাজই পানির ওপর ভাসমান অবস্থায় ছিল। কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি এবং তেল ছড়িয়ে পড়েনি। তবে তেল লোডিং সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়।
কেজাখস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে। আস্তানা জানিয়েছে, বেসামরিক জাহাজগুলোর ওপর এই ধরনের হামলা সমুদ্র নিরাপত্তা ও শক্তি সরবরাহের অবিচ্ছিন্নতাকে হুমকির মুখে ফেলে এবং দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থের পরিপন্থী।
কাসপিয়ান পাইপলাইন কনসোর্টিয়াম, যার শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে রয়েছে রাশিয়া, কেজাখস্তান, যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিম ইউরোপের বড় বড় এনার্জি কোম্পানি, পশ্চিম কেজাখস্তানের তেলক্ষেত্র থেকে নোভরোসিস্কের কাছে বন্দরের মধ্যে প্রায় দেড় হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইন পরিচালনা করে। এটি কেজাখস্তানের কাঁচা তেলের প্রায় ৮০ শতাংশ রপ্তানি করে থাকে।
এই খবরটি কেন গুরুত্বপূর্ণ
ক্যাসপিয়ান পাইপলাইন কনসোর্টিয়ামের ওপর হামলা শুধু একটি বেসামরিক অবকাঠামোর ক্ষতি নয়, এটি ঐ অঞ্চলের শক্তি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। ইউক্রেন এবং রাশিয়ার চলমান সংঘর্ষের মধ্যে এই ধরনের হামলা উত্তেজনা বাড়িয়ে দিতে পারে এবং বিশ্ববাজারে তেলের মূল্য ওঠানামার কারণ হতে পারে। এছাড়া, কেজাখস্তানসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। সামুদ্রিক বাণিজ্যের নিরাপত্তা ও অবাধ চলাচলের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, যা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং অঞ্চলীয় স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগের বিষয়।