দিল্লির এক আদালত সোমবার মার্কিন ভাড়া যোদ্ধা ম্যাথিউ অ্যারন ভ্যানডাইককে তাঁর পছন্দের খাবার গ্রহণের অনুমতি দিয়েছে। তিনি এবং আরও ছয় ইউক্রেনীয় ভাড়া যোদ্ধাকে ভারতীয় জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ) মার্চ মাসে গ্রেফতার করে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আরটি (RT) জানিয়েছে, ভ্যানডাইক তার জেলখানার খাবারকে অত্যধিক তেল ও মশলাযুক্ত হিসেবে অভিযোগ করেছিল।
ম্যাথিউ ভ্যানডাইক একজন মার্কিন নাগরিক যিনি ভারতের বিরুদ্ধে সন্দেহভাজন কার্যকলাপে অভিযুক্ত। তাঁর আইনজীবীরা ভারতের সংবিধানের ২১ নম্বর ধারার অধীনে মানবিক মর্যাদা রক্ষার দাবি জানিয়ে আদালতে আবেদন করেন। তাঁরা বলেন, ভ্যানডাইকের স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে কারণ তিনি তিহার জেলের সাধারণ খাবার গ্রহণে অক্ষম, যার ফলে তাঁর ওজন প্রায় ১৪ কেজি কমে গেছে।
আদালত মানবিক ও চিকিৎসাগত কারণ বিবেচনা করে তাকে তাঁর পছন্দসই খাবার পাওয়ার অনুমতি দিয়েছে, তবে অমাংসাশী খাবার ব্যতীত। ভ্যানডাইক মুরগি, লাল মাংস, সামুদ্রিক খাবারসহ একাধিক উপকরণের আবেদন করেছিলেন। এছাড়াও তাঁকে রান্নার জন্য বিশেষ চুলা, পাত্র ও প্লাস্টিক চপার সরবরাহ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিহার জেলের নিয়ম অনুযায়ী, প্রায়শই বন্দীদের নির্দিষ্ট মেনু অনুযায়ী খাবার দেওয়া হয় এবং ব্যক্তিগত পছন্দের খাবার পাওয়ার অনুমতি থাকে না, তবে চিকিৎসকের সার্টিফিকেট থাকলে বিশেষ খাদ্য সরবরাহ করা হয়।
ভ্যানডাইক ও তাঁর ইউক্রেনীয় সঙ্গীরা ভারতের উত্তর-পূর্ব সীমান্তবর্তী নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশ করে মায়ানমারে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। সেখানে তারা স্থানীয় সামরিক গোষ্ঠীগুলিকে ড্রোন প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এই গোষ্ঠীগুলো ভারতের উত্তরে সশস্ত্র বিদ্রোহীদের সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে।
‘সন্স অব লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল’ নামের একটি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ভ্যানডাইক বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে সামরিক প্রশিক্ষণ প্রদান করে থাকেন। ২০১১ সালে লিবিয়ার বিদ্রোহীদের সঙ্গে তাঁর লড়াইয়ে অংশগ্রহণের খবরও রয়েছে, টাইমস অফ ইন্ডিয়া সূত্রে জানা গেছে।
এই খবরটি কেন গুরুত্বপূর্ণ
এই ঘটনা ভারতীয় বিচারব্যবস্থায় মানবাধিকার ও বন্দিদের মর্যাদা সংরক্ষণের দিকটিকে সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষত, বিদেশি বন্দীদের জন্য বিশেষ খাদ্য ও সুবিধার প্রয়োজনীয়তা ও সীমাবদ্ধতার প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। একই সময়ে, এটি ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সীমান্ত নিরাপত্তা ও সশস্ত্র বিদ্রোহ মোকাবিলার গুরুত্ব তুলে ধরে। ভবিষ্যতে এই ধরনের বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।