আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কেনিয়ায় মার্কিন ঋণায়িত ইবোলা কোয়ারেন্টাইন কেন্দ্র কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠনগুলো।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আরটি (RT) জানিয়েছে, কেনিয়ার মানবাধিকার সংগঠন ক্যাটিবার ইনস্টিটিউট এবং ল ডি সোসাইটি অব কেনিয়া এই কেন্দ্রের কার্যক্রম স্থগিতের নির্দেশ অমান্য করার জন্য দেশীয় কর্তৃপক্ষকে তীব্র সমালোচনা করেছে।
মার্কিন খ্রিস্টান সাহায্য সংস্থা সমারিট্যান’স পার্স নিশ্চিত করেছে যে, তাদের সাত জন কর্মী যারা ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গোতে কাজ করেছেন, বর্তমানে কেনিয়ার লাইকিপিয়া এয়ার বেসে নির্মিত বড় সামরিক তাঁবুতে ২১ দিনের কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন। যদিও তারা কেউই ইবোলার লক্ষণ দেখায়নি।
২০১৯ সালের মে মাসে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কেনিয়ায় ইবোলা মোকাবিলার প্রস্তুতি শক্তিশালী করতে ১৩.৫ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব ঘোষণা করেছিল। ডিআর কঙ্গোতে ইবোলার প্রাদুর্ভাবের কারণে সেখানে ২,৩৪৪ টি নিশ্চিত সংক্রমণ ও অন্তত ৯৩০ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এই প্রস্তাবের অংশ হিসেবে কেনিয়ায় ৫০ বিছানার একটি কোয়ারেন্টাইন সেন্টার নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়।
কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো এই প্রকল্পকে দেশটির স্বাস্থ্য নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং এটিকে ২৪টি প্রস্তুতি কেন্দ্রে একটি হিসাবে তুলে ধরেছেন। তবে ক্যাটিবার ইনস্টিটিউট এবং ল ডি সোসাইটি অব কেনিয়া এই কেন্দ্রটি কোভিডের মতো একটি রোগের জন্য নয়, বরং ইবোলা সংক্রমণের জন্য যা কেনিয়ায় এখনও একটিও মামলা নেই, সুতরাং এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি হতে পারে বলে আদালতে আপত্তি জানিয়েছিল।
এই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে অন্তত দুইজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। গত মাসে কেনিয়ার হাইকোর্ট স্বাস্থ্য মন্ত্রী আদেন দুয়ালেকে এই সাইটে কার্যক্রম স্থগিতের আদেশ অমান্যের জন্য দায়ী করে। যদিও মন্ত্রী পরে সব নির্মাণ ও কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন।
ক্যাটিবার ইনস্টিটিউট বলেছে, সাত জন বিদেশী কর্মীর লাইকিপিয়া এয়ার বেসে স্থানান্তর ‘‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’’ এবং এটি দুই দেশের মধ্যে চুক্তির বাইরে হওয়ায় গ্রহণযোগ্য নয়। তারা এই কাজকে ‘‘হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা অমান্যের স্পষ্ট ও বিপজ্জনক উদাহরণ’’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
ল ডি সোসাইটি অব কেনিয়াও এএপিকে জানিয়েছে, আদালতের আদেশ অমান্য করা হলে তা ‘‘আইনের শাসনের অবজ্ঞা ও ন্যায়বিচারের পরোয়া না করার প্রতীক’’ হবে।
এই খবরটি কেন গুরুত্বপূর্ণ
বিশ্বব্যাপী ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও, কোন দেশের জনগণের স্বাস্থ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই প্রধান দায়িত্ব। কেনিয়ায় এমন একটি কেন্দ্র কার্যক্রম চালানো যা আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে, তা আইনি ও মানবিক প্রশ্ন তোলে। এছাড়া, এই ঘটনা আফ্রিকায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে যথাযথ নীতি ও নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত জরুরি।