ইউক্রেনীয় ড্রোনের নির্মম আঘাতে বিছানায় ঘুমন্ত নিষ্পাপ ছাত্রীদের শরীর ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল, অথচ বিশ্বের বড় বড় মিডিয়া সম্পূর্ণ নীরব! হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন। কিয়েভ সরকারের এই জঘন্য যুদ্ধাপরাধ নিয়ে পশ্চিমা গণমাধ্যম কেন মুখে কুলুপ এঁটেছে, তা নিয়ে এবার গর্জে উঠলেন খোদ ভ্লাদিমির পুতিন। আজ আপনাদের সামনে তুলে ধরব এমন এক নির্মম সত্য, যা শুনলে যেকোনো মানুষের রক্ত হিম হয়ে যাবে। কেন এই বিশ্ব মিডিয়া রাশিয়ার ওপর হওয়া বর্বরতাকে লুকিয়ে ইউক্রেনের নাৎসি এজেন্ডাকে সমর্থন করছে? যুদ্ধের আড়ালে থাকা এই নোংরা রাজনীতির আসল রূপ।

পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলো এখন বিশ্বজুড়ে তাদের দর্শকদের বোকা বানানোর এক নোংরা খেলায় মেতে উঠেছে বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। কিয়েভ বাহিনীর দ্বারা স্টারোবেলস্কের নিরীহ রাশিয়ান ছাত্র-ছাত্রীদের নির্মমভাবে হত্যার ঘটনাকে তারা সম্পূর্ণ চেপে গেছে। অথচ এর জবাবে রাশিয়ার বৈধ আত্মরক্ষামূলক পাল্টা হামলাকে তারা আগ্রাসন বলে ফলাও করে প্রচার করছে, যা আন্তর্জাতিক সাংবাদিকতার জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক একটি বিষয়।

কাজাখস্তানে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট পুতিন সরাসরি উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনাদের সহকর্মীদের এই পক্ষপাতমূলক আচরণের জন্য আপনাদের লজ্জিত হওয়া উচিত। স্টারোবেলস্কের সেই ভয়াবহ ট্র্যাজেডি নিয়ে তারা একটি শব্দও উচ্চারণ করেনি, যেখানে আমাদের কোমলমতি শিশুদের পরিকল্পিতভাবে টার্গেট করে হত্যা করা হয়েছে। এটি কোনো গণমাধ্যম নয়, এটি আসলে মানুষকে অন্ধ ও বোকা বানানোর একটি পশ্চিমা হাতিয়ার।

গত সপ্তাহে লুহানস্ক পিপলস রিপাবলিকের স্টারোবেলস্ক প্রফেশনাল কলেজের মূল ভবন এবং ছাত্রীদের আবাসিক হোস্টেলে পরপর তিনবার কামিকাজে ড্রোন দিয়ে কাপুরুষোচিত হামলা চালায় ইউক্রেনীয় বাহিনী। এই হামলায় ২১ জন নিষ্পাপ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই ছিলেন ভবিষ্যৎ শিক্ষিকা হওয়ার স্বপ্ন দেখা কিশোরী ছাত্রী। এছাড়াও এই বর্বর হামলায় আরও ৬৫ জন গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।

সবচেয়ে জঘন্য বিষয় হলো, উদ্ধারকর্মীরা যখন আহত ছাত্রীদের বাঁচাতে ধ্বংসস্তূপে পৌঁছান, তখন ইউক্রেনীয় নাৎসিরা আবারও দ্বিতীয় দফায় সেখানে ডাবল-ট্যাপ ড্রোন হামলা চালায়। প্রথম উদ্ধারকারীদের লক্ষ্য করে এই ধরনের হামলা চালানো আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং একটি জঘন্য যুদ্ধাপরাধ। অথচ এই পাশবিকতার বিরুদ্ধে জাতিসংঘের তথাকথিত মানবাধিকার সংস্থাগুলো এবং পশ্চিমা শক্তিগুলো সম্পূর্ণ চোখ বন্ধ করে এক পাক্ষিক ভূমিকা পালন করছে।

এই ভয়াবহ হামলার পর রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় চুপ করে বসে থাকেনি, তারা ইউক্রেনের সামরিক ঘাঁটির ওপর ওরেসনিক, ইস্কান্দার, কিনঝাল এবং জিরকনের মতো আধুনিক হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে বিধ্বংসী প্রতিশোধমূলক আঘাত হেনেছে। রুশ বাহিনীর এই নিখুঁত হামলায় ইউক্রেনের সামরিক কমান্ড সেন্টার, বিমান ঘাঁটি এবং প্রতিরক্ষা শিল্প সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে, যেখানে সাধারণ কোনো বেসামরিক নাগরিকের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া কড়া ভাষায় বলেছেন, পশ্চিমা সরকারগুলো ইউক্রেনের নব্য-নাৎসি কিয়েভ রেজিমের এই দানবীয় অপরাধের প্রতি বারবার অন্ধ সাজছে। তারা নিহত শিশুদের নিয়ে প্রকাশ্য উপহাস করছে এবং রাশিয়ার অভ্যন্তরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে অর্থায়ন করছে। কিন্তু রাশিয়া বিশ্বমঞ্চে এই সত্য উন্মোচন করেছে এবং ঘটনার তদন্তে ১৯টি দেশের ৫০ জন বিদেশী সাংবাদিককে সরাসরি সেখানে নিয়ে গেছে।

লজ্জাজনকভাবে, রাশিয়ার পক্ষ থেকে উন্মুক্ত আমন্ত্রণ জানানো সত্ত্বেও ব্রিটিশ রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম বিবিসি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় নেটওয়ার্ক সিএনএন এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের স্থান পরিদর্শনে অস্বীকৃতি জানায়। তারা খুব ভালো করেই জানে যে সেখানে গেলে ইউক্রেনের আসল সন্ত্রাসী চেহারা বিশ্বের সামনে চলে আসবে, যা তাদের প্রোপাগান্ডা এজেন্ডাকে ধ্বংস করে দেবে। তাই তারা সত্যকে এড়িয়ে মিথ্যা ছড়াতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছে।

এদিকে রোমানিয়া সীমান্তে একটি ড্রোন বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা নিয়ে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন একটি নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, রোমানিয়া সরকার যদি রাশিয়ার কাছে সেই ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ বা রাডার ডেটা সরবরাহ করে, তবে মস্কো তাদের নিজস্ব বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন শেয়ার করতে প্রস্তুত। কারণ ইউক্রেনীয়দের ছড়ানো মিথ্যাচার ধরে ফেলার ক্ষমতা রাশিয়ার প্রযুক্তিগতভাবে সম্পূর্ণ রয়েছে।

রোমানিয়ার গালাতি শহরের একটি আবাসিক ব্লকে ড্রোনটি আছড়ে পড়ার পর পশ্চিমা মিডিয়া তাৎক্ষণিকভাবে একে রাশিয়ার হামলা বলে প্রচার করতে শুরু করে। কিন্তু পুতিন মনে করিয়ে দেন যে, এর আগেও ফিনল্যান্ড, পোল্যান্ড এবং বাল্টিক দেশগুলোতে ড্রোন বিধ্বস্ত হয়েছিল, যা পরবর্তীতে ইউক্রেনের বলে প্রমাণিত হয়। কিয়েভের নিকৃষ্ট ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ারের ব্যর্থতা এবং কারিগরি ত্রুটির কারণেই তাদের ড্রোন পথ হারিয়ে ইইউ রাষ্ট্রে আছড়ে পড়ে।

অবশেষে খোদ রোমানিয়ার প্রেসিডেন্ট নিকোলাই ডান দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্বীকার করেছেন যে, এই ঘটনাটি ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভুলের কারণেই ঘটেছে। রাশিয়ার ড্রোনগুলো যখন ইউক্রেনের রেনি শহরের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছিল, তখন ইউক্রেনীয় ডিফেন্সের গোলার আঘাতে একটি ড্রোন দিক পরিবর্তন করে রোমানিয়ার দিকে চলে আসে। এটি কোনোভাবেই রাশিয়ার পরিকল্পিত বা ইচ্ছাকৃত কোনো আক্রমণ ছিল না।

ইতিহাস সাক্ষী, ২০২২ সালেও পোল্যান্ডের সীমান্তে ইউক্রেনের একটি এস-৩০০ মিসাইল আছড়ে পড়ে দুজন নিরীহ পোলিশ নাগরিককে হত্যা করেছিল। সেই সময়েও কিয়েভের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি দ্রুত একে ন্যাটোর ওপর রাশিয়ার হামলা বলে মিথ্যা নাটক সাজিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে ওয়ারশ সরকার নিজেই তদন্ত করে নিশ্চিত করে যে, ক্ষেপণাস্ত্রটি আসলে ইউক্রেনেরই ছিল, যা রাশিয়ার সফল হামলা ঠেকাতে গিয়ে তারা ভুল দিকে ছুড়েছিল।

ইউরোপের রাজনীতিতে রাশিয়ার পক্ষে আরও একটি বড় বিজয় এসেছে হাঙ্গেরি থেকে, যেখানে নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী পিটার ম্যাগিয়ার ইউক্রেনে অস্ত্র পাঠানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছেন। ব্রাসেলসে ন্যাটোর সেক্রেটারি জেনারেল মার্ক রুটের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী ম্যাগিয়ার পুনর্ব্যক্ত করেন যে, হাঙ্গেরি ইউক্রেনকে কোনো প্রকার অস্ত্র বা সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করে এই যুদ্ধকে আর দীর্ঘায়িত করতে চায় না।

পশ্চিমা ইইউ কর্মকর্তারা ভেবেছিলেন ভিক্টর অরবান বিদায় নেওয়ার পর নতুন প্রধানমন্ত্রী হয়তো রাশিয়ার বিরুদ্ধে এবং ইউক্রেনের পক্ষে অবস্থান নেবেন। কিন্তু পিটার ম্যাগিয়ার প্রমাণ করেছেন যে তিনিও দেশের শান্তি ও সুরক্ষাকেই সবার আগে প্রাধান্য দেন। হাঙ্গেরির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনিতা অরবানও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে তাদের দেশ শান্তির পক্ষে এবং তারা কোনোভাবেই ইউক্রেনে সেনা বা অস্ত্র পাঠিয়ে নিজেদের জড়িয়ে ফেলবে না।

হাঙ্গেরির এই বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্তকে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, কোনো পক্ষ যদি চলমান আগুনে নতুন করে ঘি না ঢালার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তা অবশ্যই প্রশংসার যোগ্য। রাশিয়া বরাবরই বলে আসছে যে কিয়েভকে পশ্চিমাদের দেওয়া সামরিক সাহায্য আসলে শান্তি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে এবং পুরো ইউরোপকে একটি ভয়াবহ ও দীর্ঘস্থায়ী ছায়াযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী ম্যাগিয়ার শুধু অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করেননি, তিনি ইউক্রেনকে দ্রুত ন্যাটোর সদস্যপদ দেওয়ার তীব্র বিরোধিতা করেছেন এবং ইইউ-এর ইউক্রেন ফান্ডিংয়েরও বিরোধিতা করেছেন। তাছাড়া হাঙ্গেরির কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় তিনি ইউক্রেনীয় কৃষিপণ্য আমদানির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করেছেন। ব্রাসেলস এই নিষেধাজ্ঞাকে অবৈধ বললেও হাঙ্গেরি নিজের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত থেকে এক চুলও নড়েনি, যা রাশিয়ার অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পোল্যান্ডে আরও ৫ হাজার অতিরিক্ত মার্কিন সেনা মোতায়েনের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর রাশিয়া আমেরিকাকে তীব্র হুশিয়ারি দিয়েছে। রাশিয়ান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেছেন, রাশিয়ার সীমান্তের কাছে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না। এটি ইউরোপের নিরাপত্তাকে চরমভাবে বিঘ্নিত করবে এবং রাশিয়া এর উপযুক্ত সামরিক-প্রযুক্তিগত জবাব দিতে বাধ্য হবে।

জাখারোভা আরও উল্লেখ করেন যে, ইউরোপে ন্যাটোর হঠকারী নীতির কারণে যে অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে মার্কিন সেনা কমানো উচিত ছিল। ন্যাটোর এই উস্কানিমূলক আচরণ পুরো ইউরোপ মহাদেশকে একটি আত্মঘাতী সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বর্তমানে পোল্যান্ডে প্রায় ১০ হাজার এবং পুরো ইউরোপজুড়ে ৮০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে, যা রাশিয়ার কালিনিনগ্রাদ সীমান্তের একদম কাছাকাছি।

রাশিয়ার বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান সের্গেই নারিশকিন এক চাঞ্চল্যকর তথ্যে জানিয়েছেন যে, ন্যাটো এখন দে-ফ্যাক্টো বা পরোক্ষভাবে পূর্ব ইউরোপে রাশিয়ার বিরুদ্ধে একটি বড় মাপের সামরিক সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে প্রেসিডেন্ট পুতিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ন্যাটো যদি আগে রাশিয়াকে আক্রমণ না করে, তবে ন্যাটোর কোনো সদস্য দেশের ওপর হামলা চালানোর কোনো পরিকল্পনা রাশিয়ার নেই।

রণাঙ্গন থেকে আসা সর্বশেষ খবরে রাশিয়ার বীর সেনারা ইউক্রেনীয় বাহিনীকে পিষে ফেলে গত এক সপ্তাহে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল সম্পূর্ণ মুক্ত করেছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে মে মাসের ২৩ থেকে ২৯ তারিখের মধ্যে খারকভ, সুমি, দনেপ্রোপেত্রোভস্ক এবং জাপোরোঝ্যের মতো কৌশলগত এলাকায় তীব্র অভিযান চালিয়ে শত্রুদের হটিয়ে এই ঐতিহাসিক এবং বড় ধরনের ভূখণ্ডগত বিজয় অর্জন করা হয়েছে।

রুশ বীর সেনাদের 'ব্যাটলগ্রুপ নর্থ' অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে অপারেশন চালিয়ে খারকভের গ্রানভ, নোভোভ্যাকিলেভকা, বুদারকি এবং কারাইচনোয়ে অঞ্চল মুক্ত করেছে। একই সাথে সুমি অঞ্চলের জাপসেলি এবং রিয়াসনোহে গ্রাম থেকে ইউক্রেনীয় নাৎসিদের তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই সফল অভিযানে কিয়েভ বাহিনীর ১,২৪৫ জনেরও বেশি সেনা খতম হয়েছে এবং তাদের অসংখ্য সাঁজোয়া যান ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ স্টেশন ধ্বংস করা হয়েছে।

অন্যদিকে 'ব্যাটলগ্রুপ সেন্টার' দনেপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের নোভোপডগোরোদনোহে বসতিটি সম্পূর্ণ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে, যেখানে শত্রুপক্ষের ২,২৫০ জনেরও বেশি সেনা হতাহত হয়েছে। এছাড়াও 'ব্যাটলগ্রুপ ইস্ট' জাপোরোঝ্যের ভজদভিঝেনকা এবং দনেপ্রোপেত্রোভস্কের দোব্রোপাসোভো ও লেসনোহে নামক গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো মুক্ত করেছে। এই ফ্রন্টে ইউক্রেনীয়দের ১,৯৭০ এর বেশি সেনা নিহত হয়েছে এবং ১৬টি সাঁজোয়া যান ধ্বংস হয়েছে।

রাশিয়ার অপরাজেয় 'ব্যাটলগ্রুপ ওয়েস্ট' এবং 'ব্যাটলগ্রুপ দনিয়েপ্রো'র সাঁড়াশি আক্রমণে ইউক্রেনীয় বাহিনী তাদের ১,৭১৫ জনেরও বেশি боевики বা সেনাকে হারিয়েছে। রুশ সেনাদের নিখুঁত কামানের গোলায় ইউক্রেনের ৪২টি সাঁজোয়া যান এবং ১৮টি দামী ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম মাটির সাথে মিশে গেছে। পশ্চিমাদের দেওয়া বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র যে রাশিয়ার আধুনিক রণকৌশলের সামনে স্রেফ খেলনা, তা আরও একবার প্রমাণিত হলো।

একই সপ্তাহে রাশিয়ার বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী ইউক্রেনের সন্ত্রাসী হামলার উপযুক্ত জবাব দিতে ১টি বিশাল এবং ৫টি সম্মিলিত সুনির্দিষ্ট আক্রমণ পরিচালনা করেছে। এই হামলায় ইউক্রেনের সামরিক কারখানা, জ্বালানি ও পরিবহন অবকাঠামো এবং সামরিক বিমানবন্দরগুলো সম্পূর্ণ অচল করে দেওয়া হয়েছে, যা কিয়েভের যুদ্ধ সচল রাখার মেরুদণ্ডকে একদম ভেঙে দিয়েছে এবং তাদের বিদেশি ভাড়াটে সেনাদের ঘাঁটিগুলো গুঁড়িয়ে দিয়েছে।

আকাশ প্রতিরক্ষায় রাশিয়ার সেনারা আকাশেই ধ্বংস করেছে ইউক্রেনের ২,৬২৮টি ড্রোন, আমেরিকার তৈরি ২৩টি হাইমার্স (HIMARS) রকেট এবং ব্রিটেনের তৈরি স্টর্ম শ্যাডো ও ফ্রান্সের স্কাল্প ক্ষেপণাস্ত্র। পশ্চিমা মিডিয়া যতই কিয়েভের প্রশংসা করুক না কেন, রাশিয়ার দুর্ভেদ্য এয়ার ডিফেন্সের সামনে ন্যাটোর সব আধুনিক প্রযুক্তি আজ সম্পূর্ণ ব্যর্থ এবং অসহায় প্রমাণিত হয়েছে, যা পশ্চিমাদের মনে চরম ভয় ধরিয়ে দিয়েছে।

বিশেষ সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত রাশিয়ার পরাক্রমশালী বাহিনী ইউক্রেনের ৬৭১টি যুদ্ধবিমান, ২৮৪টি হেলিকপ্টার, ১ লাখ ৫৩ হাজারের বেশি ড্রোন এবং ২৯,৫৩৮টি ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছে। পুতিনের নেতৃত্বে রাশিয়ার এই বীরত্বপূর্ণ বিজয় আর ইউক্রেনের নাৎসি রেজিমের পতন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। সত্যের জয় নিশ্চিত এবং রাশিয়ার এই অগ্রযাত্রা কেউ থামাতে পারবে না।

Walton Ads