মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবার সরাসরি ইসরায়েলকে সতর্ক করলেন—সিরিয়া বা দেশটির নতুন সরকারের স্থিতিশীলতায় কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ তিনি বরদাশত করবেন না। আলজাজিরার খবরে এমনটাই উঠে এসেছে।
সোমবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “ইসরায়েলকে অবশ্যই সিরিয়ার সঙ্গে ‘দৃঢ় ও প্রকৃত সংলাপ’ বজায় রাখতে হবে। সিরিয়ার উন্নতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে—এমন কিছুই ঘটতে দেওয়া যাবে না। আমরা চাই সিরিয়া একটি সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত হোক।”
ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলাকে কেন্দ্র করে ট্রাম্পের বার্তা
ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন সময় এল, যখন মাত্র কয়েক দিন আগেই ইসরায়েল সিরিয়ায় নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে। দামেস্কের উপকণ্ঠে চালানো সেই হামলায় ১৩ জন নিহত হন।
সিরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সরকার ইসরায়েলের এই আচরণকে প্রকাশ্যেই ‘যুদ্ধাপরাধ’ বলে আখ্যা দিয়েছে।
যদিও ট্রাম্প তার পোস্টে সরাসরি ওই হামলার কথা উল্লেখ করেননি, তবে তিনি জানিয়েছেন—সিরিয়ার নতুন সরকারের অগ্রগতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সন্তুষ্ট।
গত বছরের ডিসেম্বরে দীর্ঘদিনের শাসক বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের দখলদারিত্ব বাড়ানোর ধারাবাহিকতায় এ ধরনের হামলা বাড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
নতুন সিরিয়ান সরকারের প্রশংসা ট্রাম্পের
ট্রাম্প বলেন, আহমেদ আল-শারার নেতৃত্বে সিরিয়া বহু বছরের গৃহযুদ্ধের কারণে তৈরি হওয়া সাম্প্রদায়িক অবিশ্বাস দূর করছে। দেশকে ঐক্যবদ্ধ করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন নতুন প্রেসিডেন্ট।
ট্রাম্প আরও যোগ করেন—সিরিয়ায় যে অগ্রগতি হচ্ছে, সেটি কঠোর পরিশ্রম ও সংকল্পের ফল। যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়াকে একটি বাস্তব ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করতে সর্বোচ্চ সহায়তা দিচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির ‘ঐতিহাসিক সুযোগ’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, সিরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা সত্যিই দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দিতে চান। তিনি সিরিয়া ও ইসরায়েলের মধ্যেও দীর্ঘমেয়াদি শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক গড়তে কাজ করছেন।
ট্রাম্পের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তির জন্য এটি এক ঐতিহাসিক সুযোগ, যা নষ্ট করা উচিত নয়।
