আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও পাকিস্তানের কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে কাউকে দেখা করতে দিচ্ছে না আদিয়ালা কারা কর্তৃপক্ষ।
এ পরিস্থিতিতে পিটিআই নেতা-কর্মীরা আজ মঙ্গলবার ইসলামাবাদ হাইকোর্ট ও রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারের সামনে বিক্ষোভে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তিন সপ্তাহ ধরে সাক্ষাৎ বন্ধ, উদ্বেগ-গুজবে উত্তাল পরিস্থিতি
তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ইমরানের সঙ্গে পরিবারের কেউই দেখা করতে পারেননি। নানাভাবে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন তাঁরা। ফলে ইমরানের স্বাস্থ্য, অবস্থান ও নিরাপত্তা নিয়ে পরিবারের সদস্য ও দলের নেতারা গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
ইমরানের স্বাস্থ্যের অবনতি হয়েছে—এমন গুজবও ছড়িয়ে পড়ছে। এমনকি তিনি জীবিত আছেন কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে। তাঁর দুই ছেলেও লন্ডন থেকে বাবার অজানা অবস্থান নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেছেন।
যদিও গত বুধবার কারা কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে—ইমরান আদিয়ালায় আছেন, সুস্থই আছেন।
কিন্তু এরপরও তাঁর পরিবারকে দেখা করতে দেওয়া হয়নি, যা পরিস্থিতিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।
নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই বিক্ষোভ ঘোষণা
ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডিতে জনসমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি থাকা সত্ত্বেও পিটিআই বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছে।
ইসলামাবাদে ১৮ নভেম্বর থেকে দুই মাসের জন্য জনসমাবেশ নিষিদ্ধ
রাওয়ালপিন্ডিতে গত সোমবার থেকে তিন দিনের পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর
তারপরও পিটিআই পিছিয়ে যাচ্ছে না।
‘আদালতের আদেশ মানা হয়নি’ — পিটিআই নেতার অভিযোগ
পিটিআই নেতা আসাদ কায়সার জানান, প্রথমে পার্লামেন্টের বিরোধী আইনপ্রণেতারা ইসলামাবাদ হাইকোর্টের সামনে বিক্ষোভ করবেন, তারপর আদিয়ালা কারাগারের দিকে যাবেন।
তিনি বলেন,
“হাইকোর্ট নিজের আদেশ কার্যকর করতে পারেনি, আর কারা প্রশাসনও আদালতের নির্দেশ মানছে না—তাই আমরা রাস্তায় নামছি।”
মুখ্যমন্ত্রীর ধর্মঘটও ব্যর্থ
গত সপ্তাহে খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ সোহাইল খান আফ্রিদি আদিয়ালা কারাগারের সামনে অবস্থান ধর্মঘটে বসেছিলেন।
ধর্মঘটে যাওয়ার আগে আটবার চেষ্টা করেও ইমরানের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি তিনি।
একইভাবে কয়েক সপ্তাহ ধরে ইমরানের পরিবারের সদস্যরাও সাক্ষাতের জন্য অপেক্ষা করছেন—কিন্তু অনুমতি মেলেনি।
পার্লামেন্টারিদের দাবি: ইমরানের মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে
আসাদ কায়সার বলেন, পিটিআই নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট কোয়েটায় আজ একটি জনসমাবেশ করবে। ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডিতে বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেবেন গহর আলী খানসহ অন্যান্য নেতা।
তাঁর দাবি, ইমরানকে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন রাখা মানবাধিকার লঙ্ঘন, এবং পার্লামেন্টারি কমিটিও তাঁর অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানিয়েছে।
৭২ বছর বয়সী ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে আছেন।
২০২২ সালে অনাস্থা ভোটে হেরে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা হয়েছে। কয়েকটিতে তিনি দোষী সাব্যস্তও হয়েছেন।
ইমরানের দাবি—সবকিছুই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা।
আদালতের নিয়ম অনুযায়ী, সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রতি সপ্তাহে পরিবারকে দেখা করতে দেওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে তা ঘটছে না—যা দেশজুড়ে উদ্বেগ, ক্ষোভ এবং পরিস্থিতির আরও উত্তেজনা বাড়িয়ে দিচ্ছে।
