তুরস্ক আবারো বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিল! দেশটির তৈরি মনুষ্যবিহীন যুদ্ধবিমান বাইরাকতার কিজিলেলমা  প্রথমবারের মতো আকাশে উড়তে উড়তে আরেকটা উড়ন্ত লক্ষ্যবস্তুকে মিসাইল ছুড়ে ঠিকঠাক গুড়িয়ে দিয়েছে। এই ঘটনা পুরো বিশ্বের মনুষ্যবিহীন আকাশযুদ্ধের ইতিহাসে নতুন পাতা খুলে দিল।

পরীক্ষাটা হয়েছে তুরস্কের সিনোপ উপকূলের কাছে, গত ২০ নভেম্বর। উচ্চগতির জেট ইঞ্জিনচালিত একটা টার্গেট ড্রোনকে কিজিলেলমা নিজের তৈরি গোকডোগান মিসাইল ছুড়ে আকাশেই ধ্বংস করে দিয়েছে। পুরো ঘটনার ভিডিও দেখে মুখ হাঁ হয়ে যাওয়ার জোগাড়!

বাইকার কোম্পানি জানিয়েছে, এই হামলায় ১০০% দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার হয়েছে – এসেলসানের মুরাদ AESA রাডার দিয়ে লক্ষ্য ধরা, গোকডোগান মিসাইল ছোড়া, আর কিজিলেলমা নিজেই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেছে। অর্থাৎ কোনো বিদেশি টেকনোলজির ওপর ভরসা করতে হয়নি।

এর আগে কোনো মনুষ্যবিহীন বিমান আকাশে চলমান শত্রুকে এভাবে ধরে ধরে মারতে পারেনি। কিজিলেলমা এখন বিশ্বের প্রথম ড্রোন যোদ্ধা যে আকাশ-আকাশ লড়াইয়ে পুরোদস্তুর সফল।

পরীক্ষার দিন মেরজিফন এয়ারবেস থেকে ৫টা এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের সঙ্গে কিজিলেলমা একসঙ্গে উড়েছে – যেন ভবিষ্যতে মানুষ আর রোবট মিলে একই টিমে লড়াই করার রিহার্সাল! আরেকটা ড্রোন আনকা-এস পুরো ঘটনার ভিডিও করে রেখেছে।

কিজিলেলমার সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ফিচার হলো, এটা রাডারে ধরা পড়ে খুব কম। দূর থেকেই শত্রুকে দেখে ফেলে, কিন্তু শত্রু বুঝতেও পারে না। এর আগে এটা ভূমিতে টার্গেটে টিওএলইউএন আর টেবের-৮২ বোমা ফেলে সফলতা দেখিয়েছিল। এখন আকাশেও রাজত্ব শুরু!

২০০৩ সাল থেকে নিজের পকেটের টাকা খরচ করে বাইকার এই স্বপ্ন দেখছে। আজ তারা বিশ্বের সবচেয়ে বড় ড্রোন রপ্তানিকারকদের একটা। ২০২৩ সালে শুধু সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি করে ১.৮ বিলিয়ন ডলার আয়! গত চার বছর ধরে তুরস্কের নাম্বার ওয়ান প্রতিরক্ষা রপ্তানিকারক কোম্পানি।

এই সাফল্যের পর তুরস্ক এখন সত্যিই আকাশের নতুন বাদশাহ হওয়ার পথে!

 

news