ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলে চলমান রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনার মাঝে এডেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সব ধরনের ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
শুক্রবার ২ জানুয়ারি আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার এডেন বিমানবন্দর থেকে সব ফ্লাইট স্থগিত রাখা হয়েছে। কবে নাগাদ আবার ফ্লাইট চালু হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের অধীন এসটিসি-সমর্থিত পরিবহন মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, সৌদি আরব নতুন একটা শর্ত আরোপ করায় এডেন বিমানবন্দরে ফ্লাইট বন্ধ হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এডেন থেকে যাওয়া ফ্লাইটগুলোকে জেদ্দায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা এ সিদ্ধান্তে ‘বিস্মিত’ হয়েছে। পরে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, এই বিধিনিষেধ শুধু এডেন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে চলাচলকারী ফ্লাইটের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
তবে একটা সৌদি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, ফ্লাইট সীমাবদ্ধতার পেছনে সৌদি আরব জড়িত নয়; বরং ইয়েমেনের প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের নেতৃত্বাধীন সরকারই ইউএইগামী ফ্লাইটের ক্ষেত্রে এই শর্ত আরোপ করেছে।
ইয়েমেনের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা থাবেত আল-আহমাদি আল জাজিরাকে বলেন, এডেন থেকে একটা নির্দিষ্ট রুটে এই শর্ত কার্যকর করা হয়েছে, যার উদ্দেশ্য এসটিসির অর্থ পাচার রোধ করা। তিনি আরও বলেন, সরকার পুরোপুরি ফ্লাইট বন্ধের পক্ষে নয় এবং আকাশপথে যোগাযোগ স্বাভাবিক রাখতে চায়।
এর আগে চলতি সপ্তাহে ইউএই ইয়েমেন থেকে তাদের অবশিষ্ট ‘সন্ত্রাসবিরোধী’ বাহিনী প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়। এর কিছু আগে সৌদি আরব দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী মুকাল্লায় একটা ইউএই-সংযুক্ত অস্ত্র চালান লক্ষ্য করে হামলার দাবি করে।
বুধবার ইয়েমেনের সরকারপ্রধান রাশাদ আল-আলিমি সতর্ক করে বলেন, এসটিসি যদি সংশ্লিষ্ট প্রদেশগুলোতে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করার চেষ্টা করে, তবে তার মারাত্মক পরিণতি হবে। তবে এসটিসি এ হুঁশিয়ারিকে উপেক্ষা করে জানিয়েছে, তারা ওই প্রদেশগুলোতেই থাকবে।
