ইয়েমেনে ক্ষমতার চাকা ঘুরে গেল ঝটিকাগতিতে! সৌদি আরব সমর্থিত সরকারি বাহিনী সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) মদদপুষ্ট বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের (এসটিসি) কাছ থেকে দুইটি বিশাল প্রদেশ পুনরুদ্ধার করেছে। ইয়েমেনে এই দুই প্রভাবশালী আরব শক্তির মধ্যে লড়াই চলাকালেই এই বড় ধরনের পরিবর্তন এলো।
আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেনি সরকারের শীর্ষ সংস্থা প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের (পিএলসি) প্রধান রশাদ আল-আলিমি শনিবার এক বিবৃতিতে জানান, সৌদি সমর্থিত ‘হোমল্যান্ড শিল্ড’ বাহিনী সৌদি আরবের সাথে লাগোয়া হাজরামাউত ও আল-মাহরা প্রদেশের ‘সমস্ত সামরিক ও নিরাপত্তা অবস্থান পুনর্দখল’ করে একটি ‘রেকর্ড সাফল্য’ অর্জন করেছে। অভিযান শুরুর মাত্র একদিন পরেই এই বিজয়ের ঘোষণা এলো।
সবচেয়ে বড় খবর হলো, ইয়েমেন সরকার নিশ্চিত করেছে যে তারা হাজরামাউত প্রদেশের রাজধানী এবং একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পূর্বাঞ্চলীয় বন্দর শহর মুকাল্লা আবারও নিজেদের দখলে নিয়ে এসেছে। গত মাসে এই শহরটি এসটিসির নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছিল।
ইয়েমেনি সরকারি সূত্র আল জাজিরা আরবিককে জানিয়েছে, ইয়েমেনের সবচেয়ে বড় প্রদেশ হাজরামাউতের সমস্ত জেলা এখন সরকারি বাহিনীর হাতে। একইসাথে, আল-মাহরা প্রদেশের যুব দপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ওমর সুয়াইলাম রোববার তুরস্কের আনাদোলু সংবাদ সংস্থাকে জানান, এসটিসি বাহিনী সরে যাওয়ার পর ‘হোমল্যান্ড শিল্ড’ বাহিনী প্রদেশটির ‘নয়টি জেলার সবকটিই’ দখল করে নিয়েছে।
গত সপ্তাহের মঙ্গলবার থেকে ইয়েমেনে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়, যখন এসটিসি বাহিনী হাজরামাউত ও আল-মাহরা দখল করে নেয়। এই দুটি প্রদেশ ইয়েমেনের মোট ভূখণ্ডের প্রায় অর্ধেক জুড়ে রয়েছে এবং সৌদি আরবের সাথে সরাসরি সীমান্ত আছে, যা কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আল জাজিরার ইয়েমেন বিষয়ক সম্পাদক আহমেদ আল-শালাফি বলেন, গত একদিনে ইয়েমেনের রাজনৈতিক ও সামরিক মানচিত্রে বড় রকমের পরিবর্তন এসেছে। তার ভাষায়, ‘ইয়েমেনি সেনাবাহিনী ও হোমল্যান্ড শিল্ড বাহিনী সরাসরি ময়দানে নেমে সামরিক হস্তক্ষেপ করেছে এবং এটার মাধ্যমেই সংঘাতের সমাধান হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, এই সামরিক সাফল্যের পর রাজনৈতিক উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। ইয়েমেন সরকার আলোচনার জন্য সৌদি আরবে সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে, যা পরিস্থিতি শান্ত করার একটি নতুন প্রচেষ্টা বলে মনে করা হচ্ছে।
