ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের সরকারপতনের ব্যাপার পুরোপুরি নির্ভর করছে দেশটির জনগণের ওপর, আর ইসরায়েলের কাজ হলো সাধারণ মানুষকে এ ব্যাপারে উৎসাহিত করা।
গতকাল সোমবার ইরানের নিক্ষিপ্ত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আহতদের দেখতে ইসরায়েলের ন্যাশনাল হেলথ ইমার্জেন্সি সেন্টারে যান নেতানিয়াহু। সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন,
“আমাদের আকাঙ্ক্ষা হলো ইরানের সাধারণ জনগণকে স্বৈরাচারের হাত থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য উৎসাহিত করা; সরকারপতনের বিষয়টি সম্পূর্ণ ইরানের জনগণের হাতে। এটি পুরোপুরি তাদের ওপর নির্ভর করছে।”
নেতানিয়াহু আরও বলেন,
“গত ১০ দিনে আমরা ইরানের ক্ষমতাসীন স্বৈরাচারী সরকারের ওপর শক্তিশালী আঘাত হেনেছি, এবং এখনও আমাদের বাহু প্রসারিত। যদি ইরানের জনগণ সরকারের পতন ঘটাতে সক্ষম হয়—আমরাও সেই সাফল্যের অংশীদার হব।”
তিনি বলেন, “এটি ইসরায়েলের জন্য এক অসাধারণ পরিবর্তন হবে এবং আমাদের স্থায়ী নিরাপত্তা হুমকির অবসান ঘটাবে।”
ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে। তবে ২৭ ফেব্রুয়ারি সেই আলোচনা কোনো সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়।
এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে “অপারেশন এপিক ফিউরি” নামে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী। একই সময়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ইসরায়েলও “অপারেশন রোয়ারিং লায়ন” নামে সামরিক অভিযান চালায়।
যুদ্ধের প্রথম দিন ২৮ অক্টোবর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ অন্তত ৪০ জন সামরিক ও বেসামরিক শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা নিহত হন।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানে প্রায় ১ হাজার ৩০০ জন নিহত হয়েছেন এবং ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
