ইরানের চলমান অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ নিয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের মন্তব্যে কঠোর ভাষায় জবাব দিয়েছে ভেনেজুয়েলা। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের 'হস্তক্ষেপমূলক ও প্রতারণামূলক' বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এ ধরনের মন্তব্য ইরানি জাতির প্রতি ওয়াশিংটনের 'দীর্ঘদিনের ঘৃণা' প্রকাশ করে।

ভেনেজুয়েলার বিবৃতিতে বলা হয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ইরানের জনগণের প্রতি সহানুভূতি থেকে নয়, বরং চাপ, হুমকি ও হস্তক্ষেপের মাধ্যমে সেখানে সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা তৈরি করাই তাদের লক্ষ্য। একইসাথে ইরান তাদের সংবিধান অনুযায়ী শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকার স্বীকার করে এবং জনগণের বৈধ দাবি মেটানোর চেষ্টা অব্যাহত রাখবে বলেও জানানো হয়।

বিবৃতিতে ইরানের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের জন্য সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও আর্থিক যুদ্ধকে দায়ী করা হয়েছে।

ভেনেজুয়েলার দৃঢ় অবস্থান

অন্যদিকে, ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ স্পষ্ট করে বলেছেন, তার দেশের ভাগ্য শুধুমাত্র ভেনেজুয়েলার জনগণ এবং বৈধ সরকারই নির্ধারণ করবে। কোনো বিদেশি শক্তি বা হস্তক্ষেপ কারাকাসকে প্রভাবিত করতে পারবে না।

ট্রাম্পের 'জলদস্যু' পরিকল্পনার তীব্র প্রতিবাদ

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিতর্কিত এক বক্তব্যে ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদে দখলের পরিকল্পনার কথা প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, ভেনেজুয়েলা ৫ কোটি ব্যারেল তেল যুক্তরাষ্ট্রকে সরবরাহ করবে এবং এর রাজস্ব সরাসরি হোয়াইট হাউসের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

এই পরিকল্পনাকে তীব্র ভাষায় নিন্দা করে রাশিয়ার সংসদ সদস্য লিওনিদ স্লুটস্কি বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ হচ্ছে 'একবিংশ শতাব্দীর জলদস্যুতা', যা আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন ও জাতিসংঘের চুক্তি লঙ্ঘন করে।

আন্তর্জাতিক সংস্থায় সহায়তা বন্ধ

সবশেষে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে ৬৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা ও কমিশনে মার্কিন সহায়তা স্থগিত করেছেন। এ আদেশে জাতিসংঘের অধিভুক্ত ৩১টি এবং অন্যান্য ৩৫টি সংস্থায় অর্থায়ন বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এসব ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা পদক্ষেপ ও সম্পদ দখলের মনোভাব নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

 

news