ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট দাবি করেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত বা ইউএই দক্ষিণ ইয়েমেনের প্রভাবশালী বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা আইদারুস আল-জুবাইদিকে দেশ ছাড়তে সাহায্য করেছে। এই ঘটনায় উপসাগরীয় দুই মিত্র দেশের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র হয়েছে। একই সময়ে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সৌদি সমর্থিত বাহিনী বন্দরনগরী অ্যাডেনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
সৌদি জোটের তথ্য অনুযায়ী, জুবাইদি নৌপথে ইয়েমেন ত্যাগ করেন এবং প্রথমে সোমালিল্যান্ডে যান। সেখান থেকে তিনি একটি বিমানে করে মোগাদিশু যান এবং পরে সেই বিমানটি আবুধাবির একটি সামরিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
ঘটনার প্রেক্ষিতে সৌদি আরব ও ইউএইয়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব তীব্র হয়ে উঠেছে। দক্ষিণ ইয়েমেনের অস্থিরতা নিয়ে রিয়াদে বুধবার ডাকা বৈঠকে জুবাইদি হাজির না হওয়ায় সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে। জুবাইদির নেতৃত্বাধীন এসটিসি দাবি করেছে, তাকে হুমকির মুখে সৌদি আরবে যেতে বলা হয়েছিল। তবে সৌদি জোটের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি ইউএই কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে ইয়েমেন ত্যাগ করেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
গত মাসে দক্ষিণ ইয়েমেনে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের অগ্রযাত্রা ও সৌদি সীমান্তে পৌঁছানোর পর এই সংকট শুরু হয়। সৌদি আরব এটিকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। এতে ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াইরত জোটের ভিতরে ফাটল আরও স্পষ্ট হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ইয়েমেনি সরকারি কর্মকর্তা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সৌদি সমর্থিত বাহিনী অ্যাডেনের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এসটিসির ভেতরে বিভাজন সৃষ্টি হলে দক্ষিণ ইয়েমেনে স্থিতিশীলতা ফেরানো আরও কঠিন হবে। যদি জুবাইদির আবুধাবিতে অবস্থানের অভিযোগ সত্যি প্রমাণিত হয়, তা সৌদি অসন্তোষ আরও বাড়াতে পারে।
২০১৪ সালে ইরান সমর্থিত হুথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করলে সৌদি আরব ও ইউএই দেশটিতে সামরিক হস্তক্ষেপ শুরু করে। ২০১৭ সালে ইউএই সমর্থিত এসটিসি সরকারি জোটে যোগ দিলেও সাম্প্রতিক ঘটনা সেই জোটের ভিতরে গভীর বিভাজন প্রকাশ করেছে।
