সোমালিল্যান্ডের ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতা হারসি আলী হাজি হাসান ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের সিদ্ধান্তকে জোরালোভাবে সমর্থন করেছেন। তিনি বলছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের অবহেলার কারণে দেশটির কাছে ইসরায়েলের দিকে ঝুঁকতে আর কোনো উপায় ছিল না।

হাসান আল জাজিরাকে বলেছেন, “আমাদের হাতে কোনো বিকল্প নেই। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আমাদের অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িত। যে কোনো দেশ যদি আমাদের স্বাধীনতা স্বীকার করে, আমরা তাকে স্বাগত জানাব।”

ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সার সম্প্রতি হারগেইসা সফর করেছেন। এটি সোমালিল্যান্ডে কোনো ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রথম সফর। এছাড়া গত ডিসেম্বরে ইসরায়েল সোমালিল্যান্ডের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দিয়েছে।

এই পদক্ষেপে তীব্র কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সোমালিল্যান্ডকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করা সোমালিয়ার কেন্দ্রীয় সরকার এটিকে সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছে। আরব লীগ ও ওআইসি ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী বাস্তবতা’ প্রত্যাখ্যান করে বিবৃতি দিয়েছে।
হাসান এসব সমালোচনাকে গুরুত্ব দেননি। তিনি বলেছেন, “আমরা ৩৪ বছর ধরে স্বাধীন। আরব লীগের প্রত্যাখ্যান আমাদের কাছে কোনো ব্যাপার না। তারা কখনো আমাদের সদস্য করেনি, আর কোনো আরব দেশ থেকে আমরা কোনো মনোযোগ পাইনি।”

তিনি আরও বলেছেন, “ইসরায়েলের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক শুধু সোমালিল্যান্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মিসর, তুরস্ক, জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ অনেক আরব ও মুসলিম দেশই ইসরায়েলের সঙ্গে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রেখেছে।”
সোমালিল্যান্ডের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে, যেখানে স্বীকৃতি, রাজনৈতিক স্বার্থ আর আরব বিশ্বের প্রতিক্রিয়ার মধ্যে ভারসাম্য রাখাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

 

news