যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্যিক শুল্ক ও গ্রিনল্যান্ড নিয়ে সাম্প্রতিক হুমকির বিরুদ্ধে এবার ইউরোপের কণ্ঠ স্পষ্ট হলো। বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বার্ট ডি ওয়েভার স্পষ্ট করে বলেছেন, ইউরোপ কখনোই ট্রাম্পের ‘দাসে’ পরিণত হবে না। মঙ্গলবার সুইজারল্যান্ডের ড্যাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের এক প্যানেলে তিনি এই কঠোর হুঁশিয়ারি দেন।

ডি ওয়েভার বলেন, ইউরোপ এখন ‘চরম চাপে’ রয়েছে এবং একটি ‘চৌরাস্তায়’ দাঁড়িয়ে। এখানে তাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে—হয় সবাই একসাথে ঐক্যবদ্ধ থাকবে, নয়তো বিশৃঙ্খলা ও বিভক্তির দিকে যাবে। তিনি ইউরোপীয় নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ট্রাম্পের অন্যায্য দাবির সামনে কখনোই মাথা নত করা যাবে না।

তিনি ইউরোপের অতীত নীতিরও সমালোচনা করেন। ডি ওয়েভার বলেন, "এখন পর্যন্ত আমরা হোয়াইট হাউসের নতুন প্রেসিডেন্টকে শান্ত রাখার চেষ্টা করেছি। আমরা খুবই নমনীয় ছিলাম—এমনকি শুল্কের বিষয়েও—এই আশায় যে ইউক্রেন যুদ্ধে আমরা তার সমর্থন পাব।"

কিন্তু তিনি স্বীকার করেন, "আমরা এখন খুব খারাপ অবস্থানে আছি, কারণ আমরা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল। সেই কারণেই নমনীয়তার পথ বেছে নিয়েছিলাম। কিন্তু এখন এত বেশি 'রেড লাইন' অতিক্রম করা হচ্ছে যে, আপনাকে নিজের আত্মসম্মান বেছে নিতে হবে।"

সবচেয়ে কড়া বক্তব্যে তিনি বলেন, "একটি সুখী অনুগত রাষ্ট্র হওয়া এক জিনিস, আর একজন অসহায় দাসে পরিণত হওয়া সম্পূর্ণ আলাদা। আপনি যদি এখন পিছিয়ে যান, তবে আপনি আপনার মর্যাদা হারাবেন। আর একটি গণতন্ত্রে মর্যাদাই সম্ভবত সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ।"

আগামী বুধবার ড্যাভোসেই বেলজিয়ামের রাজা ফিলিপ ও প্রধানমন্ত্রী ডি ওয়েভারের সাথে ট্রাম্পের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ডি ওয়েভার জানান, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে বিতর্ক শুরু হওয়ার আগেই এই বৈঠক নির্ধারিত ছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বৈঠকের ধরন বদলে যাবে। তিনি সরাসরি ট্রাম্পকে বলবেন, "আপনি এখানে সীমা লঙ্ঘন করছেন।"

তিনি শেষ চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, "হয় আমরা একসঙ্গে দাঁড়াব, না হয় আমরা বিভক্ত হয়ে পড়ব। আর আমরা যদি বিভক্ত হই, তবে গত ৮০ বছরের 'আটলান্টিজম'—যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মৈত্রীর যুগ—শেষ হয়ে যাবে।"
তার এই ভাষ্য স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয় যে, ইউরোপ এবার ট্রাম্পের সমস্ত চাপের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে প্রস্তুত এবং সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে মার্কিন নীতির ওপর।

 

news