যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে সর্বশক্তি দিয়ে পাল্টা আঘাত হানা হবে—এমন কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন হামলার গুঞ্জন এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের রণতরী ও যুদ্ধবিমান মোতায়েনের খবর সামনে আসার পরই এই বার্তা দিল তেহরান।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল-এ প্রকাশিত এক মতামত কলামে আরাগচি লেখেন, ২০২৫ সালের জুনে ইরান যে সংযম দেখিয়েছিল, এবার আর সেই পথ অনুসরণ করা হবে না। তার ভাষায়, নতুন করে হামলার শিকার হলে ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী সর্বস্ব দিয়ে পাল্টা আঘাত হানবে, আর সেই জবাবে কোনো সীমারেখা থাকবে না।
উল্লেখ্য, গত বছরের জুনে দখলদার ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর দুই দেশের মধ্যে শুরু হয় সরাসরি যুদ্ধ। সেই সংঘাত টানা ১২ দিন স্থায়ী হয় এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রও সরাসরি জড়িয়ে পড়ে। ওই সময় মার্কিন বিমানবাহিনী ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় বাঙ্কার ব্লাস্টার বোমা হামলা চালায়।
আরাগচি তার লেখায় স্পষ্ট করে বলেন, এটি কোনো ফাঁকা হুমকি নয়, বরং বাস্তবতা। তিনি জানান, একজন কূটনীতিক ও সাবেক সেনা হিসেবে তিনি যুদ্ধ ঘৃণা করেন, কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি স্পষ্ট করে বলতেই হচ্ছে।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, যদি সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হয়, তাহলে তা হবে ভয়াবহ ও দীর্ঘস্থায়ী। ইসরায়েল ও তাদের মিত্ররা যতটা কল্পনা করছে, যুদ্ধ তার চেয়েও অনেক বেশি দীর্ঘ হবে। এই সংঘাত পুরো অঞ্চলকে গ্রাস করবে এবং বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক সামরিক প্রস্তুতি ও যুদ্ধের হুমকির জবাবে ইরান এবার স্পষ্ট লাল দাগ টেনে দিয়েছে। তেহরানের বার্তা পরিষ্কার—আত্মরক্ষা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস নয়, আর হামলা হলে জবাব হবে সর্বাত্মক।
