লেবাননের শক্তিশালী প্রতিরোধ গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মহাসচিব শেখ নাঈম কাসেম সোমবার এক টিভি ভাষণে খুব স্পষ্ট করে দিয়েছেন—ইরানের ওপর যদি আমেরিকা বা ইসরাইল কোনো সামরিক হামলা চালায়, তাহলে পুরো পশ্চিম এশিয়া আগুনের গোলায় পরিণত হবে। এমনকি এই অঞ্চল ছাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়তে পারে!
তিনি বলেন, “ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো মার্কিন আগ্রাসনকে আমরা নিজেদের ওপরই হামলা বলে মনে করব। আমরা এই হুমকিকে মোটেও হালকাভাবে নিচ্ছি না। যা যা করা দরকার, সব প্রস্তুতি আমরা নিয়ে রেখেছি এবং সময়মতো সিদ্ধান্ত নেব।”
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ সাইয়্যেদ আলি খামেনির বিরুদ্ধে মার্কিন হুমকির কথা উল্লেখ করে কাসেম আরও কঠোর সুরে বলেন, “খামেনি শুধু ইরানের নেতা নন, তিনি কোটি কোটি মুসলমানের ধর্মীয় ও নৈতিক নেতা। তাঁকে হত্যার চেষ্টা করা মানে পুরো মুসলিম বিশ্বের আবেগে আগুন ধরিয়ে দেওয়া। এর পরিণতি এমন হবে যে কেউ আর নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না—অঞ্চল থেকে শুরু করে বিশ্বজুড়ে অশান্তি ছড়াবে।”
ভাষণে তিনি জানান, গত কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারী ও বিদেশি পক্ষ তাদের কাছে বারবার জিজ্ঞাসা করেছে—যদি আমেরিকা-ইসরাইল মিলে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে, তাহলে হিজবুল্লাহ কী করবে? তারা চেয়েছে আগাম প্রতিশ্রুতি যেন হিজবুল্লাহ না জড়ায়, যাতে তারা নিজেদের সামরিক পরিকল্পনা ঠিক করতে পারে।
কাসেম বলেন, এই মধ্যস্থতাকারীরা খোলাখুলি স্বীকার করেছে যে আমেরিকা ও ইসরাইল তিনটি সম্ভাব্য পথ নিয়ে ভাবছে: প্রথমত, আগে হিজবুল্লাহকে আঘাত করে তারপর ইরানে হামলা; দ্বিতীয়ত, আগে ইরানকে টার্গেট করে তারপর হিজবুল্লাহকে; অথবা তৃতীয়ত, একসঙ্গে দুই পক্ষের ওপরই হামলা চালানো।
হিজবুল্লাহ প্রধানের এই কড়া হুঁশিয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। সবাই এখন চোখ রাখছে পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে!
