যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হলেও ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম বন্ধ করবে না—তেহরান থেকে এমনই কড়া বার্তা দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন হলেও তাতে ইরান মোটেই ভীত নয়।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানী তেহরানে এক সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে আরাগচি বলেন, ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চালিয়ে যেতে দেশটিকে বড় মূল্য দিতে হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা কেন সমৃদ্ধকরণের ওপর এত জোর দিচ্ছি—এমনকি তারা যদি আমাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেয় তবুও? কারণ আমাদের কীভাবে চলতে হবে, তা ঠিক করার অধিকার অন্য কারও নেই।”

এর আগে গত শুক্রবার ওমানের রাজধানী মাস্কাটে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকোফের সঙ্গে পরোক্ষ বৈঠক করেন আব্বাস আরাগচি। সেই বৈঠকের মাত্র দুদিন পরই তেহরানে দাঁড়িয়ে এই কড়া বক্তব্য দিলেন তিনি।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি প্রসঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “এ অঞ্চলে তাদের সামরিক যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন আমাদের ভয় দেখাতে পারে না।”

এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন—ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের শর্তে নতুন কোনো চুক্তিতে না আসে, তবে হামলার পথেও হাঁটতে পারে ওয়াশিংটন। সেই চাপের অংশ হিসেবেই যুদ্ধবিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনসহ কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইরানের কাছাকাছি এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের জুনে ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। সে সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। তবে এখন আবার নতুন করে ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে আগ্রহ দেখাতে শুরু করেছেন তিনি।

 

news