জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বহুল আলোচিত পরমাণু আলোচনা শুরু হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে আবারও চাপ ও হুমকির পথ বেছে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পরিস্থিতি ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
‘অকাট্য প্রমাণ’ দাবি ভ্যান্সের
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট JD Vance দাবি করেছেন, গত জুনে ইরানের পরমাণু স্থাপনায় মার্কিন হামলার পর তেহরান আবার তাদের কর্মসূচি পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে— এমন ‘অকাট্য প্রমাণ’ নাকি তাদের হাতে রয়েছে।
তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না। আর যদি সেই পথে এগোয়, তাহলে ওয়াশিংটন কূটনৈতিক পথের পাশাপাশি অন্য বিকল্প ব্যবস্থাও নিতে পিছপা হবে না।
ফক্স নিউজে কড়া ভাষা
Fox News-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক বলে মন্তব্য করেন। তার ভাষায়, এমন একটি সরকারের হাতে পরমাণু অস্ত্র দেওয়া সম্ভব নয় এবং তা বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যুতে রুবিওর চাপ
এদিকে আলোচনায় শুধু পরমাণু ইস্যুই নয়, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকেও অন্তর্ভুক্ত করার জোর দাবি তুলেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী Marco Rubio।
তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করতে রাজি না হয়, তাহলে তা আলোচনার সফলতার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে। অর্থাৎ, ওয়াশিংটনের বার্তা স্পষ্ট— শুধু পরমাণু নয়, সামরিক সক্ষমতার বিস্তৃত বিষয়ও আলোচনার টেবিলে আনতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।
ট্রাম্পের কঠোর সতর্কবার্তা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump তার ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণেও ইরানকে সন্ত্রাসের মদদদাতা বলে অভিযোগ করেন। একইসঙ্গে দেন কঠোর সতর্কবার্তা। তার বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল— যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজন হলে আরও কঠিন পদক্ষেপ নিতেও প্রস্তুত।
ইরানের বার্তা: শান্তি চাই, তবে প্রস্তুতি দুই দিকেই
ওয়াশিংটনের একের পর এক হুঁশিয়ারির মধ্যেও ইরান জানিয়েছে, তারা আলোচনায় আগ্রহী। তবে একইসঙ্গে শান্তি ও যুদ্ধ— দুই পরিস্থিতির জন্যই প্রস্তুত থাকার ঘোষণা দিয়েছে তেহরান।
আসন্ন জেনেভা বৈঠককে ঘিরে তাই এখন বিশ্বজুড়ে কৌতূহল— উত্তেজনা কি কূটনীতির টেবিলে থামবে, নাকি নতুন করে বাড়বে সংঘাত? আন্তর্জাতিক রাজনীতির এই টানাপোড়েনের ফলাফলই হয়তো নির্ধারণ করবে মধ্যপ্রাচ্যের আগামী দিনের চিত্র।
