সৌদি আরবের রিয়াদের আরামকো স্থাপনায় সাম্প্রতিক হামলাকে ইসরাইলের ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ বা ভুয়া পরিচয়ে চালানো গোপন অপারেশন বলে দাবি করেছে ইরান। তেহরানের অভিযোগ, ইরানে হামলার দায় থেকে মনোযোগ সরাতেই এই কৌশল নেওয়া হয়েছে।
ইরানের একটি সামরিক সূত্র দেশটির বার্তা সংস্থা Tasnim News Agency-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছে।
‘আরামকো আমাদের লক্ষ্য ছিল না’
ওয়াকিবহাল ওই সূত্রের দাবি, ইরান আগেই স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে তারা অঞ্চলে সব মার্কিন ও ইসরাইলি সম্পদ ও স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করবে এবং ইতিমধ্যে অনেকগুলোতে আঘাত হেনেছে। তবে আরামকো স্থাপনাগুলো এখন পর্যন্ত ইরানি হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল না।
সূত্রটি আরও জোর দিয়ে বলেছে, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দরও ইসরাইলের সম্ভাব্য পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারে এবং এ ধরনের হামলার ইচ্ছা পোষণ করছে তারা।
আগের খবরে ইরানের ড্রোন হামলার দাবি
এর আগে খবরে বলা হয়, ইরানের ড্রোন সৌদি আরবের আরামকোর তেল শোধনাগারে আঘাত হেনেছে। হামলার পর সৌদি আরামকো রাস তানুরা রিফাইনারির কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। সোমবার (২ মার্চ) এই হামলা হয় বলে জানিয়েছে The Times of Israel।
প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলার পর স্থাপনায় আগুন লাগে, তবে আগুন সীমিত ছিল এবং দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
রাস তানুরা—মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম রিফাইনারি
Saudi Aramco-র রাস তানুরা রিফাইনারি সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলে অবস্থিত এবং এটি মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম তেল শোধনাগার হিসেবে পরিচিত। জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার ঘটনায় পুরো অঞ্চলে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কী এই ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ কৌশল?
‘ফলস ফ্ল্যাগ’ বা মিথ্যা পতাকা কৌশল হলো এমন এক ধরনের গোপন অভিযান, যেখানে প্রকৃত হামলাকারী নিজেকে আড়ালে রেখে অন্য পক্ষের ওপর দায় চাপায়। সাধারণত শত্রুপক্ষকে অভিযুক্ত করে সামরিক পদক্ষেপের অজুহাত তৈরি করা, জনমত প্রভাবিত করা বা কৌশলগত সুবিধা নেওয়ার জন্য এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
ইরানের এই অভিযোগ নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। আরামকো হামলার পেছনে আসলেই কে—সে প্রশ্ন এখনো স্পষ্ট নয়। তবে জ্বালানি অবকাঠামো ঘিরে এমন হামলা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
