ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলো থেকে আক্রমণ বন্ধ হলে ইরানও হামলা বন্ধ করবে। আজ শনিবার টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভাষণে তিনি এই ঘোষণা দিয়েছেন।

ভাষণে তিনি বলেন, “গত কয়েক দিনে যেসব প্রতিবেশী দেশে ইরান হামলা করেছে—সেগুলোতে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। কিন্তু আমাদের আর কোনো বিকল্প নেই। ইরানের জনগণ কখনও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কাছে মাথা নত করবে না। স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, আত্মমর্যাদা ও জাতীয় স্বার্থে আমরা কখনও আপস করব না।”

তিনি আরও বলেন, “শত্রুরা চায় ইরানের জনগণ আত্মসমর্পণ করুক; তবে তা কখনও ঘটবে না। বরং এই আকাঙ্ক্ষা নিয়ে শত্রুরা কবরে যাবে।”

ইরানের অস্থায়ী নিরাপত্তা পরিষদ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, “প্রতিবেশী দেশগুলো যদি হামলা বন্ধ করে, তাহলে ইরানও পাল্টা হামলা বন্ধ করবে।”

ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সংলাপ চলে। কিন্তু ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো সমঝোতা ছাড়াই সংলাপ শেষ হয়।

এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে। একই সময়ে ইসরায়েলও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে সামরিক অভিযান চালায়। হামলার পাল্টা জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ছে। তবে সরাসরি কোনো দেশের সঙ্গে যুদ্ধ এখনো শুরু হয়নি।

মার্কিন গোয়েন্দাদের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, রাশিয়া ইরানকে গোয়েন্দা সহায়তা দিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটির সেনাসংখ্যা, অস্ত্র, যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধজাহাজের তথ্য মস্কো তেহরানকে সরবরাহ করছে।

২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের প্রথম দিনই নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। এরপর ইরানে ‘অস্থায়ী নেতৃত্ব পরিষদ’ গঠিত হয়। এই পরিষদের প্রধান হলেন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান। অন্য দুই সদস্য হলেন ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম হোসেন মোহসেনি-এজেই এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন জ্যেষ্ঠ সদস্য।

 

Walton Ads