ইরানের ইসলামিক রেভলুশনারি গার্ড কর্পস আইআরজিসি হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ পারাপারে মার্কিন সামরিক বাহিনীর উপস্থিতির জন্য অপেক্ষা করছে। আঞ্চলিক যুদ্ধের কারণে এই কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথে জাহাজ চলাচল বর্তমানে স্থবির হয়ে পড়েছে। শনিবার আইআরজিসি সতর্ক করে জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনী উপস্থিত হলে তাদের ধ্বংস করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রী ঘোষণা দেন, নৌবাহিনী যথাযথ সময়ে এই প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে পাহারা দেবে। এই ঘোষণার পর আইআরজিসির মুখপাত্র আলী মোহাম্মদ নাইনি বলেন, “আমরা তাদের উপস্থিতির অপেক্ষায় আছি। মার্কিনিরা যেন ১৯৮৭ সালে সুপারট্যাঙ্কার ‘ব্রিজেটনে’ লাগা আগুন এবং সম্প্রতি লক্ষ্যবস্তু হওয়া তেলবাহী জাহাজগুলোর কথা মনে রাখে।”
নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করায় পারস্য উপসাগরে প্রিমা নামের একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালায় আইআরজিসি। টেলিগ্রাম-এ পোস্ট করা বিবৃতিতে আইআরজিসি জানিয়েছে, “আমরা বারবার সতর্ক করেছি যে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, ইউরোপীয় দেশ এবং তাদের মিত্রদের জাহাজ এই প্রণালী ব্যবহার করতে পারবে না। প্রিমা ট্যাঙ্কার সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেছে।”
হরমুজ প্রণালী আরব সাগর ও পারস্য উপসাগরকে সংযুক্ত করে এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রুট। প্রতিদিন বিশ্বের চলাচলকারী তেল ও তরল গ্যাসবাহী জাহাজের ২০% এই পথ ব্যবহার করে।
কারণেই হরমুজ প্রণালীকে বলা হয় ‘জ্বালানির বৈশ্বিক দরজা’। মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো এই রুট ব্যবহার করে পশ্চিমা বিশ্বের জন্য তেল রপ্তানি করে। প্রণালী বন্ধ থাকলে মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটতে পারত।

 

Walton Ads