মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে। দ্রুত বাড়ছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম, যা ইতোমধ্যেই চার বছরের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে।

বর্তমানে অপরিশোধিত তেলের দুই প্রধান সূচক ব্রেন্ট ক্রুড এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) – উভয়ের দামই ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

এক প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, রোববার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড প্রতি ব্যারেল বিক্রি হয়েছে ১০৮ দশমিক ৬৮ ডলারে। অন্যদিকে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) বিক্রি হয়েছে ব্যারেলপ্রতি ১০৮ ডলারে।

আগের দিন শনিবারের তুলনায় রোববার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১৮ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে ডব্লিউটিআই তেলের দাম বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ।

জ্বালানি বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের নিষেধাজ্ঞার কারণে হরমুজ প্রণালীতে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে বাধা তৈরি হওয়ায় এই মূল্যবৃদ্ধি ঘটছে।

আরব সাগর ও পারস্য উপসাগরকে যুক্ত করা হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রুট। বিশ্বের মোট তেল ও তরল গ্যাসবাহী জাহাজের প্রায় ২০ শতাংশ প্রতিদিন এই পথ ব্যবহার করে।

এই কারণেই হরমুজ প্রণালীকে অনেক সময় “জ্বালানির বৈশ্বিক দরজা” বলা হয়। মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো মূলত এই পথ দিয়েই তাদের তেল আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করে। হরমুজ প্রণালী না থাকলে পশ্চিমা বিশ্বে মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহ করা অনেক কঠিন হয়ে যেত।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ক্রুদের সতর্কবার্তা দিতে শুরু করে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। ইতোমধ্যে কয়েকটি জাহাজে হামলার ঘটনাও ঘটেছে।

ব্রিটিশ সংস্থা ইউকে মেরিটাইম অপারেশনের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১০টি তেলবাহী জাহাজে হামলার চেষ্টা হয়েছে।

এর আগে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর সময় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল।

 

Walton Ads