ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে মাত্র প্রথম ছয় দিনেই বিপুল অঙ্কের অর্থ খরচ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই সময়ের মধ্যেই প্রায় ১১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে যুদ্ধ পরিচালনায়।

এই তথ্য মার্কিন আইনপ্রণেতাদের এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস। গত মঙ্গলবার কংগ্রেস সদস্যদের সামনে যুদ্ধের খরচের প্রাথমিক হিসাব তুলে ধরা হয়।

তবে কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, এই অঙ্কটি পুরো খরচের চিত্র নয়। কারণ এতে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন, যুদ্ধ সরঞ্জাম পরিবহন এবং অন্যান্য লজিস্টিক ব্যয়ের অনেক কিছুই ধরা হয়নি। ফলে বাস্তবে মোট ব্যয় আরও অনেক বেশি হতে পারে।

বাংলাদেশি মুদ্রায় হিসাব করলে ১১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। তুলনা করলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হয়—সরকারি হিসাবে বাংলাদেশের পদ্মা সেতু নির্মাণে খরচ হয়েছিল প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ যুদ্ধের মাত্র প্রথম ছয় দিনেই যুক্তরাষ্ট্র যে অর্থ ব্যয় করেছে, তা দিয়ে প্রায় পাঁচটি পদ্মা সেতু তৈরি করা সম্ভব।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর প্রথম দুই দিনেই যুক্তরাষ্ট্রের খরচ ছিল ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি। সে সময় ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয় AGM-154 গ্লাইড বোমা। এই ধরনের প্রতিটি বোমার দাম প্রায় ৫ লাখ ৭৮ হাজার ডলার থেকে ৮ লাখ ৩৬ হাজার ডলার পর্যন্ত।

তবে যুদ্ধের তৃতীয় দিন থেকে তুলনামূলক কম দামের অস্ত্র ব্যবহারের দিকে ঝুঁকে পড়ে মার্কিন বাহিনী, যাতে ব্যয় কিছুটা কমানো যায়।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে দখলদার ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে তেহরান মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা শুরু করে। এরপর থেকেই পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং সংঘাতের মাত্রা বাড়তে থাকে।

এই যুদ্ধ কতদিন চলবে এবং শেষ পর্যন্ত খরচ কতটা বাড়বে—এ নিয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে মাত্র কয়েক দিনের ব্যয়ই যে বিস্ময়কর অঙ্ক ছুঁয়েছে, তা স্পষ্ট করে দিয়েছে নতুন এই হিসাব।

 

news