ইরানের রাজধানী তেহরানে বার্ষিক আল-কুদস দিবসের মিছিলে ভয়াবহ ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রাথমিকভাবে এক নারী নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর ফেরদৌসী চত্বরে হাজার হাজার মানুষের অংশগ্রহণের সময় এই বিস্ফোরণ ঘটে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রেস টিভি জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার ফলে ছিটকে আসা স্প্লিন্টারের আঘাতে নারী নিহত হয়েছেন। তবে হামলার সঠিক স্থানের তথ্য এবং আরও কোনো হতাহতের খবর এখনও স্পষ্ট হয়নি।
এদিন কুদস দিবসে তেহরান ও অন্যান্য শহরে বিপুল সংখ্যক মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। বিক্ষোভকারীরা “ইসরায়েল নিপাত যাক” ও “আমেরিকা নিপাত যাক” স্লোগান দেন। তারা ইরানের পতাকা ও ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের ছবি বহন করেন এবং জেরুজালেম ও ফিলিস্তিনি জনগণের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন।
তেহরানের সমাবেশে অংশ নেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি আলি লারিজানিসহ সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারা। লারিজানি দাবি করেন, ইসরায়েল ভয়ের কারণে কুদস দিবসে বোমা ফেলছে। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “ইসরায়েল ভয়ের কারণে বোমা ফেলছে, কিন্তু ইরানিরা একটি শক্তিশালী, সচেতন ও সংকল্পবদ্ধ জাতি।”
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও শেয়ার করে জানান, বোমা বিস্ফোরণ সত্ত্বেও ইরানিরা প্রদর্শনী চালিয়ে যাচ্ছেন এবং আন্তর্জাতিক কুদস দিবস উপলক্ষে দেশের দৃঢ় জনগণের পাশে থাকতে পেরে তিনি গর্বিত বোধ করছেন।
উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে ইরান প্রতি বছর রমজানের শেষ শুক্রবার আল-কুদস দিবস পালন করে আসছে। বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খামেনি এই দিন ঘোষণা করেছিলেন, যা ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন ও ইসরায়েলি দখলের বিরোধিতা হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে পালিত হয়।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানে অন্তত ১,৪৪৪ জন নিহত এবং ১৮,৫৫১ জন আহত হয়েছেন।
