মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা দিন দিন বাড়ছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সতর্ক করে দিয়েছে, যদি মার্কিন বাহিনী খার্গ দ্বীপের তেল অবকাঠামোতে হামলা চালায়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে সক্রিয় সব মার্কিন তেল কোম্পানি এবং সম্পর্কিত কোম্পানিগুলোকে ‘ছাইয়ের স্তূপ’ বানানো হবে।
দেশটির সংবাদমাধ্যম ফার্স এবং তাসনিম নিউজ শনিবার এই হুমকির বিবৃতি প্রচার করেছে।
ট্রাম্পের পদক্ষেপ ও আইআরজিসি হুমকি
গত শুক্রবার, মার্কিন বিমানবাহিনী খার্গ দ্বীপে অভিযান চালায়। এ ঘটনায় ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করে বলেন,
“আমি দ্বীপটির তেল অবকাঠামো ধ্বংস না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে যদি ইরান বা অন্য কেউ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা দেয়, আমি অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করব।”
এই পোস্টের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আইআরজিসি মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলোকে লক্ষ্য করে হামলার হুমকি দেয়।
খার্গ দ্বীপের কৌশলগত গুরুত্ব
খার্গ দ্বীপ পারস্য উপসাগরের ইরানের উপকূল থেকে ২৬ কিলোমিটার দূরে এবং হরমুজ প্রণালি থেকে ৪৮৩ কিলোমিটার উত্তরপশ্চিমে অবস্থিত। মাত্র ৫ বর্গমাইল আয়তনের এই দ্বীপ ইরানের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড এবং জ্বালানি বাণিজ্যের প্রাণ হিসেবে পরিচিত।
ইরান তার ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল ও তরল গ্যাসের চালান এই দ্বীপ থেকে বহির্বিশ্বে পাঠায়। কৌশলগতভাবে খার্গ দ্বীপ খুবই গুরুত্বপূর্ণ, তাই এখানে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
ভবিষ্যতের ঝুঁকি
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, খার্গ দ্বীপের অবকাঠামোতে কোনো হামলা ইরানের প্রতিক্রিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি নিরাপত্তায় বিশাল ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।
