ভারতীয় জাহাজের হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। ইরানে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ফাতহালি জানিয়েছেন, ইরান কয়েকটি ভারতীয় জাহাজকে এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্র পথ দিয়ে নিরাপদে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে।
শনিবার (১৪ মার্চ) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। নয়াদিল্লিতে ইন্ডিয়া টুডে আয়োজিত এক সম্মেলনে তিনি বলেন, “ইরান কিছু ভারতীয় জাহাজকে হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার জন্য নিরাপদ পথ দিয়েছে।” তবে ঠিক কতটি জাহাজকে এই সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।
এদিকে, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রথম দুই সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক খরচ ও ক্ষতির পরিমাণও প্রকাশ হয়েছে। তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর তথ্য বিশ্লেষণে জানা গেছে, এই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মোট ক্ষতি প্রায় ৩.৮৪ বিলিয়ন ডলার।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রাডার ধ্বংস হওয়ার কারণে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান ও সৌদি আরবে থাকা থাড প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার চারটি রাডার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার।
এ ছাড়া কাতারের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটিতে থাকা একটি সতর্কতামূলক রাডারও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ধ্বংস হয়েছে। এই রাডারের মূল্য প্রায় ১.১ বিলিয়ন ডলার।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ১১টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ভূপাতিত হয়েছে। প্রতিটি ড্রোনের দাম প্রায় ৩০ মিলিয়ন ডলার, ফলে মোট ক্ষতি দাঁড়িয়েছে ৩৩০ মিলিয়ন ডলার।
কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভুলবশত হামলায় তিনটি এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে, যার ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৮২ মিলিয়ন ডলার।
ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলে একটি কেসি-১৩৫ জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ছয় মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। বিমানটির মূল্য প্রায় ৮০ মিলিয়ন ডলার।
এছাড়া, বাহরাইনের মানামায় যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরেও ইরানের হামলায় কিছু যোগাযোগ সরঞ্জাম ও স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে।
সব মিলিয়ে, চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩.৮৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
