ইরান যুদ্ধ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে গুজব ও ভুয়া তথ্য ছড়ানোর মাশুল গুনতে হচ্ছে প্রবাসী বাংলাদেশিসহ ৩৫ জনকে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করেছে। গতকাল রাজধানী আবুধাবি-সহ দেশটির বিভিন্ন এলাকা থেকে এই গ্রেপ্তারি অভিযান চালানো হয়।

রোববার আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল ড. হামাদ সাইফ আল শামসের দপ্তর থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে ভুয়া তথ্য ও কৃত্রিম ভিডিও কনটেন্ট ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় নজরদারি চালিয়ে তাদের শনাক্ত করা হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “ধারণা করা হচ্ছে, জনসাধারণের মধ্যে বিশৃঙ্খলা উস্কে দেওয়া এবং দেশের সাধারণ স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত করতেই তারা এই কাজ করছিলেন।”

গ্রেপ্তারদের মধ্যে বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত, পাকিস্তান এবং নেপালের নাগরিকরাও রয়েছেন। তাদের ইতোমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে আমিরাতের পুলিশ।

আমিরাতের সরকারি বার্তা সংস্থা ওয়ামকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অ্যাটর্নি জেনারেল ড. হামাদ সাইফ আল শামস বলেন, “এই ব্যক্তিরা তাদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে এআই দিয়ে তৈরি কৃত্রিম ভিডিও আপলোড করতেন।” তিনি আরও সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু দেশের স্থিতিশীলতার জন্যই নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি।

উল্লেখ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাতে গুজব ও ভুয়া তথ্য ছড়ানো একটি গুরুতর অপরাধ। দেশটির আইনে এই অপরাধ প্রমাণিত হলে ন্যূনতম ১ বছরের কারাদণ্ড এবং ১ লাখ দিরহাম জরিমানার বিধান রয়েছে।

এই ঘটনা প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। বিদেশে বসবাস করে সে দেশের আইন ও শৃঙ্খলা নিয়ে খেলা করা যে কত বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে, তারই জ্বলন্ত উদাহরণ হয়ে রইল এই গ্রেপ্তার।

 

news