ইরান যুদ্ধের জেরে বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালি এখন কার্যত রণক্ষেত্র। গত ১৫ দিনে ইরানের হামলার শিকার হয়েছে বিভিন্ন দেশের পতাকাবাহী ১২টিরও বেশি ট্যাংকার। কিন্তু এই পরিস্থিতির মধ্যেও নিরাপদে চলাচল করছে ভারতীয় জাহাজ। ইরান কেন ভারতীয় ট্যাংকারগুলোকে ছাড় দিচ্ছে, তা নিয়ে কৌতূহলের শেষ নেই।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ রহস্যের অবসান ঘটালেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রাহ্মণ্যম জয়শঙ্কর। তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, এখানে কোনো 'লুকোচুরি' বা গোপন চুক্তি নেই। ইরানের সঙ্গে ভারতের বহু বছরের কূটনৈতিক সম্পর্কের ফলেই এই সাফল্য এসেছে ।

জয়শঙ্কর বলেন, “আমি ইরান সরকারের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি এবং তারই কিছু ফলাফল আমরা পেতে শুরু করেছি। আমাদের আলোচনা এখনও জারি আছে।” তিনি আরও বলেন, “ভারত সবসময়ই যে কোনো সমস্যা সমাধানে আলাপ-আলোচনা, যুক্তি এবং সমন্বয়কে অগ্রাধিকার দেয়। ইরানের সঙ্গেও আমরা সেই পথেই হাঁটছি” ।

ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের সাংবাদিক সরাসরি প্রশ্ন করেছিলেন, ভারতীয় ট্যাংকারগুলোকে ছাড় দেওয়ার বিনিময়ে ইরানকে কী দেওয়া হয়েছে? জবাবে জয়শঙ্কর সাফ জানিয়ে দেন, “না, বিনিময়ের কোনো ইস্যু এখানে নেই। পুরো ব্যাপারটিই ঘটেছে পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে। ইরানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক বহু বছরের। বর্তমান সংঘাতকে আমরা খুবই দুর্ভাগ্যজনক মনে করি” ।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ জারি করে ইরান । কিন্তু এর মধ্যেই ভারতের চারটি ট্যাংকার জাহাজ— পুষ্পক, পরিমল, শিবালিক এবং নন্দা দেবী— নিরাপদে এই পথ পেরোতে পেরেছে। প্রথম দু’টি জাহাজে ছিল জ্বালানি তেল এবং পরের দু’টিতে এলপিজি গ্যাস ।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের ২০ শতাংশ যায়। এই পথ বন্ধ থাকলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধাক্কা লাগে । ভারতের জন্য এই প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশটির অপরিশোধিত তেল আমদানির ৪০-৫০ শতাংশ এবং তরল গ্যাসের বড় একটি অংশ আসে এই পথ দিয়েই ।

জয়শঙ্কর আরও জানিয়েছেন, এই সাফল্য সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালিতে এখনও বহু ভারতীয় জাহাজ আটকে আছে এবং তাদের নিরাপদে চলাচলের জন্য আলোচনা অব্যাহত থাকবে ।

 

news