মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুন জ্বলছে, আর সেই সুযোগে দেশের ভেতর থেকে গোপন তথ্য পাচারের অভিযোগ উঠেছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাজ্যভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল ইরান ইন্টারন্যাশনালকে গোপনে গোয়েন্দা তথ্য পাঠানোর অভিযোগে ৫০০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ইরানের পুলিশ। দেশটির পুলিশ বাহিনীর প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমাদরেজা রাদান গতকাল ইরানের আধাসরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রাদান জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে অন্তত ২৫০ জন সরাসরি ইরান ইন্টারন্যাশনালকে তথ্য সরবরাহের দায়ে গ্রেপ্তার হয়েছে। এছাড়া, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একাধিক আন্ডারগ্রাউন্ড সন্ত্রাসী গ্যাংয়ের সদস্যও রয়েছে। রাদানের ভাষ্য, এই দলগুলোর প্রধান কাজ হলো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা, জনগণকে উসকে দেওয়া এবং উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা চালানো।

উল্লেখ্য, লন্ডনভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল ইরান ইন্টারন্যাশনালকে ২০২২ সালে ‘সন্ত্রাসী সংস্থা’ হিসেবে আখ্যা দেয় ইরান। তেহরানের অভিযোগ, এই চ্যানেলটি ভুয়া তথ্য প্রচার করে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকারের বিরুদ্ধে উস্কানি দেওয়ার কাজ করে।

এই গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে যখন ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে তীব্র লড়াইয়ে লিপ্ত। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ইসরায়েলের ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানও পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের ৬ দেশে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে দফায় দফায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে তারা।

এই হামলায় এ পর্যন্ত ইরানে নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ৩০০ ছাড়িয়েছে। আর যুদ্ধবিরতির কোনো লক্ষণ এখনও দেখা যাচ্ছে না। এমন সংকটময় মুহূর্তে দেশের ভেতর থেকে গোপন তথ্য ফাঁস হওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করেছে তেহরান।

 

news