মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর উদ্দেশে খোলা চিঠি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থা সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান ও সচিব Ali Larijani। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে তিনি এই আহ্বান জানান।

আরবি ভাষায় লেখা ওই চিঠিতে লারিজানি বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে যে সংঘাত শুরু হয়েছে, তার একদিকে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল, আর অন্যদিকে প্রতিরোধী শক্তি। আপনারা সবাই জানেন, যুক্তরাষ্ট্র কখনও কারো প্রতি বিশ্বস্ত নয় এবং ইসরায়েল আপনাদের শত্রু। এক মুহূর্ত থেমে এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবুন। ইরান সবসময় আপনাদের প্রতি আন্তরিক এবং কখনও আধিপত্য বিস্তার করতে চায় না।”

বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘মার্কিন-জায়নবাদী আগ্রাসন’ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানকে ধ্বংস করার লক্ষ্যেই এই যুদ্ধ শুরু করেছে। দুঃখজনকভাবে, এমন কঠিন সময়ে মুসলিম দেশগুলোর সমর্থন খুবই সীমিত।”

তবে লারিজানি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “এই যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত আগ্রাসীদেরই ভোগাবে। কারণ ইরানের সাহসী জনগণ এত সহজে হার মানবে না। তারা শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবে।”

উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সংলাপ চলে। তবে কোনো সমঝোতা ছাড়াই ২৭ ফেব্রুয়ারি তা শেষ হয়।

এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে। একই সময়ে ইসরায়েলও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে আলাদা সামরিক অভিযান চালায়।

এর জবাবে ইরান পাল্টা হামলা শুরু করে। ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের ছয় দেশ—Saudi Arabia, Qatar, Kuwait, Bahrain, United Arab Emirates এবং Oman—এ অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে দফায় দফায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়, যা এখনও অব্যাহত রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে লারিজানির খোলা চিঠি সামনে এলো এমন সময়, যখন মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ তাদের ভূখণ্ডে ইরানি হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে।

 

news