পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া গুরুত্বপূর্ণ সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার পর বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারির বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণা। সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ৮ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে।
বাজার পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর তথ্য তুলে ধরে রয়টার্স জানিয়েছে, সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড বিক্রি হচ্ছে ১০১ দশমিক ৯১ ডলারে। যা আগের দিনের তুলনায় ৬ দশমিক ৭১ ডলার বা প্রায় ৭ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি।
একইভাবে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দামও বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি ব্যারেল ডব্লিউটিআই বিক্রি হচ্ছে ১০৪ দশমিক ১৬ ডলারে, যা আগের দিনের তুলনায় ৭ দশমিক ৫৯ ডলার বা প্রায় ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ বেশি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইসলামাবাদের সংলাপ ব্যর্থ হওয়া এবং হরমুজ প্রণালিতে ট্রাম্পের অবরোধ ঘোষণার সঙ্গে তেলের দামের এই বৃদ্ধির সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার বিশ্লেষক সংস্থা এমএসটি মারকুই’র গবেষণা প্রধান সাউল কাভোনিক রয়টার্সকে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় তেলের দাম কিছুটা কমছিল। কিন্তু ইসলামাবাদের আলোচনা ভেস্তে যাওয়া এবং হরমুজে অবরোধ ঘোষণার পর বাজার আবারও যুদ্ধ পরিস্থিতির মতো আচরণ করছে।”
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন নিয়ে গত দুই দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিরোধ চলছে। এই ইস্যুতে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা ২১ দিন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সংলাপ চলে। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা ছাড়াই ২৭ ফেব্রুয়ারি সেই আলোচনা শেষ হয়।
এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। একই সময়ে ইসরায়েলও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে পৃথক সামরিক অভিযান শুরু করে।
এই সংঘাতের প্রথম দিনেই নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, যিনি ৩৭ বছর ধরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন। ওই হামলায় তার পরিবারের একাধিক সদস্যও প্রাণ হারান—স্ত্রী, কন্যা, নাতি এবং ছেলে মোজতবা খামেনির স্ত্রী নিহত হন, আর মোজতবা নিজে গুরুতর আহত হন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে গত ৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে। এরপর ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে নতুন করে সংলাপে বসে দুই দেশ। তবে টানা ২১ ঘণ্টার আলোচনার পরও কোনো সমঝোতা ছাড়াই সেই বৈঠক শেষ হয়।
