ইরানের ইউরেনিয়াম রাশিয়ায় স্থানান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। গতকাল সোমবার মস্কোর ক্রেমলিনে এক ব্রিফিংয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেন প্রেসিডেন্টের দপ্তরের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ।
ক্রেমলিনের প্রেস সেক্রেটারি জানান, যুক্তরাষ্ট্র এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করার পরই এই প্রস্তাব সামনে আনেন পুতিন। একই সঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন, এর আগেও রাশিয়া এমন একটি উদ্যোগের কথা বলেছিল।
সোমবারের ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, আগের দিন রোববার টেলিফোনে কথা হয় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে।
সেই আলোচনায় পেজেশকিয়ান ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানি প্রতিনিধিদের বৈঠক সম্পর্কে পুতিনকে বিস্তারিত জানান।
পেসকভ বলেন, প্রেসিডেন্ট পুতিন মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যেকোনো রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উদ্যোগে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
আন্তর্জাতিক পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইএইএ’র তথ্য অনুযায়ী, ইরানের কাছে বর্তমানে প্রায় ৪০০ কেজি ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা ৬০ শতাংশ পর্যন্ত পরিশোধিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশুদ্ধতা ৯০ শতাংশে পৌঁছালে তা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা তৈরি করতে পারে।
তবে ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে এবং অস্ত্র তৈরির কোনো পরিকল্পনা নেই।
অন্যদিকে, ইরানের পরমাণু প্রকল্প ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে গত প্রায় দুই দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির উত্তেজনা চলছে। এই বিরোধের ধারাবাহিকতায় ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ পরিস্থিতি শুরু হয় বলে জানা যায়।
এদিকে মার্চের প্রথম সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ১৫ দফা শান্তি প্রস্তাব পাঠান। সেই প্রস্তাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ছিল— ইরানের ইউরেনিয়াম হয় ধ্বংস করতে হবে, নয়তো দেশ থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে।
