হরমুজ প্রণালি ঘিরে চলমান অচলাবস্থার কারণে তেলের সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যার বড় ধাক্কা লাগতে যাচ্ছে ইউরোপের বেসামরিক ও বাণিজ্যিক বিমান খাতে। বর্তমানে ইউরোপের দেশগুলোর কাছে যে পরিমাণ জেট ফুয়েল মজুত রয়েছে, তা দিয়ে বড়জোর আর মাত্র ৬ সপ্তাহ চলা সম্ভব।

ফ্রান্সভিত্তিক স্বায়ত্তশাসিত আন্তঃসরকার সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ)-এর নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “ইউরোপের কাছে বর্তমানে জেট ফুয়েলের যে মজুত আছে, তা দিয়ে বড়জোর ৬ সপ্তাহ চলা সম্ভব।”

তিনি সতর্ক করে বলেন, “যদি আমরা হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত করতে না পারি, তাহলে খুব শিগগিরই এমন খবর আসতে পারে—জেট ফুয়েলের অভাবে ইউরোপের এক শহর থেকে আরেক শহরে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।”

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বিরোল আরও জানান, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং তার জেরে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় ইউরোপ এখন ইতিহাসের অন্যতম বড় জ্বালানি সংকটের মুখে। তার ভাষায়, “আগে ‘ভয়াবহ পরিস্থিতি’ কথাটা প্রায়ই বলা হতো, কিন্তু আমরা এখন সত্যিই সেই অবস্থার মধ্যে আছি।”

তিনি বলেন, “এই সংকট যত দীর্ঘ হবে, বিশ্ব অর্থনীতির জন্য ততই খারাপ হবে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমবে, মূল্যস্ফীতি বাড়বে—সব দেশই এর প্রভাব অনুভব করবে।”

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর ইরান হরমুজ প্রণালি অবরোধ করে। প্রায় ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-চতুর্থাংশ পরিবহন করা হয়।

টানা ৪০ দিন যুদ্ধ চলার পর ৮ এপ্রিল ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতিতে যায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এরপর ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে ইরান ও মার্কিন প্রতিনিধিদের সংলাপ ব্যর্থ হলে হরমুজ প্রণালি ও ইরানের সামুদ্রিক বন্দরগুলোতে নতুন করে অবরোধ জারি করে যুক্তরাষ্ট্র।

তবে এখনো স্বাভাবিক হয়নি এই গুরুত্বপূর্ণ রুটের জাহাজ চলাচল। যেখানে সাধারণ সময়ে প্রতিদিন ১২০ থেকে ১৪০টি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করত, বর্তমানে সেখানে দৈনিক গড়ে মাত্র ১০ থেকে ১২টি জাহাজ চলাচল করছে।

 

news