ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর দেশটিতে স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অনেক এলাকায় উদযাপন শুরু হয়।

এই যুদ্ধবিরতির ফলে ইসরায়েল-লেবাননের ছয় সপ্তাহের সংঘাত আপাতত থেমে গেছে। এর মধ্যেই দীর্ঘদিন বাস্তুচ্যুত থাকা বহু মানুষ নিজেদের বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে আগেই সতর্ক করে বলা হয়েছিল—যুদ্ধবিরতি স্থায়ী হবে কি না নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বাড়ি না ফেরাই ভালো।

রয়টার্স প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, দক্ষিণ লেবাননের সাইদা শহরের দিকে মানুষ হেঁটে ও গাড়িতে করে ফিরছেন, দীর্ঘ সারিতে এগিয়ে যাচ্ছেন তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়ে জানান, লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহও এই সমঝোতার অংশ। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর লেবাননের বিভিন্ন স্থানে আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়। বিশেষ করে রাজধানী বৈরুতে মধ্যরাতের পর মানুষ আকাশে গুলি ছুড়ে উদযাপন করে।

তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত হয়নি। শুক্রবার ভোরে লেবাননের সেনাবাহিনী অভিযোগ করেছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরায়েল তা লঙ্ঘন করেছে। তাদের দাবি, দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন গ্রামে গোলাবর্ষণ চালানো হয়েছে। এ বিষয়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

অন্যদিকে হিজবুল্লাহ বৃহস্পতিবার দিনজুড়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চালানো সামরিক অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরে একটি দীর্ঘ বিবৃতি প্রকাশ করে। তারা জানায়, স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৫০ মিনিটে তারা শেষ হামলা চালায়, যা যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার মাত্র ১০ মিনিট আগে।

পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প সবাইকে যুদ্ধবিরতি মেনে চলার আহ্বান জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সব পক্ষই শান্তিপূর্ণ আচরণ বজায় রাখবে।

 

news