আমেরিকার সঙ্গে ইরানের মাত্র দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি শেষ হতে চলেছে। ৮ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধবিরতি শেষ হবে ২২ এপ্রিল। আর এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই আবারও আতঙ্ক আর ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন সাধারণ ইরানিরা।
আল জাজিরার সাংবাদিক তৌহিদ আসাদি রোববার তেহরান থেকে জানিয়েছেন, ইরানিদের মধ্যে নানা মিশ্র অনুভূতি কাজ করছে। আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধান হবে— এমন আশা কারও কারও মধ্যে আছে, কিন্তু তা খুবই দুর্বল।
বিশেষ করে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তির আলোচনা চলছিল, তখন সাধারণ মানুষ বড় আশা দেখেছিলেন। কারণ চুক্তি হলে নিষেধাজ্ঞা উঠে যেতো, আর তাতে বদলে যেতো সাধারণ মানুষের জীবনমান। দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার জেরে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে তাদের। কিন্তু এখন যখন ভবিষ্যতের দিকে তাকান, তখন হতাশা আর অনিশ্চয়তা কেবল বেড়েই চলেছে।
তৌহিদ বলছেন, ইরানিরা খুব আতঙ্কিত। শুধু যুদ্ধের ছায়ার জন্যই নয়, বরং হঠাৎ করেই যেকোনো মুহূর্তে কী ঘটে যেতে পারে— সেই আশঙ্কায় তারা আতঙ্কিত। আর এই আতঙ্ক যুদ্ধবিরতির মধ্যেও কাটছে না।
কারণ এর আগেও যখন ইরানের নেতারা আমেরিকার সঙ্গে আলোচনা করছিলেন, তখনই তাদের দেশের ওপর হামলা হয়েছে। একবার নয়, দুবার। সেসব ছিল একেবারে অপ্রত্যাশিত ও অভূতপূর্ব বিমান হামলা। ইরানিদের শঙ্কা, এবারও হয়তো তেমন কিছু ঘটতে পারে।
তবে অন্যদিকে, যুদ্ধ শুরুর শুরু থেকেই সাধারণ ইরানিদের মধ্যে প্রতিরোধের ইচ্ছেও দেখা গেছে। দিনরাত সরকারের পক্ষে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছেন এবং এখনও জানাচ্ছেন বহু সাধারণ মানুষ।
