রণক্ষেত্রে ইউক্রেনের কফিন কি তবে তৈরি হয়ে গেছে? জেলেনস্কির স্বপ্ন কি তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে? রাশিয়ার অজেয় শক্তির সামনে ইউক্রেনের তথাকথিত বীরত্ব এখন কেবল ড্রাগস আর নেশার আড়ালে লুকানো লজ্জা! একদিনে ২৭৪টি ড্রোন ধ্বংস, শত শত সেনার মৃত্যু আর ইউরোপের নোংরা রাজনীতির শিকার হয়ে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ইউক্রেন।
রাশিয়ার বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী গত ২৪ ঘণ্টায় ইউক্রেনীয় বাহিনীর ওপর যে তাণ্ডব চালিয়েছে, তা যুদ্ধের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক। ইউক্রেনের পাঠানো প্রায় ২৭৪টি ফিক্সড-উইং ড্রোনকে রাশিয়ার আকাশসীমা স্পর্শ করার আগেই ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে পুতিনের সেনারা। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, পশ্চিমাদের দেওয়া তথাকথিত 'অজেয়' সব অস্ত্র এখন রাশিয়ার রাডারে সাধারণ খেলনার মতো ধরা পড়ছে এবং ধ্বংস হচ্ছে।
ইউক্রেন মনে করেছিল ড্রোন দিয়ে রাশিয়ার ক্ষতি করবে, কিন্তু রাশিয়ার অত্যাধুনিক প্রযুক্তি তাদের সব পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিয়েছে। শুধু ড্রোনই নয়, ইউক্রেনের গর্বের হাইমার্স (HIMARS) মাল্টিপল রকেট লঞ্চার প্রজেক্টাইল এবং একটি নেপচুন লং-রেঞ্জ গাইডেড মিসাইলকেও আকাশেই গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই বিধ্বংসী সাফল্য প্রমাণ করে যে রাশিয়ার আকাশসীমা এখন বিশ্বের সবচেয়ে সুরক্ষিত এবং দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিণত হয়েছে, যা ভাঙা অসম্ভব।
রুশ সেনারা কেবল আত্মরক্ষা করেনি, বরং পাল্টা মরণকামড় দিয়েছে ইউক্রেনীয় ড্রোনের উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে। যেসব কারখানায় লং-রেঞ্জ ইউএভি তৈরি হচ্ছিল এবং যেখান থেকে সেগুলো উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল, রাশিয়ার নির্ভুল নিশানায় সেই স্থাপনাগুলো এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ইউক্রেনীয় সশস্ত্র বাহিনীর স্বার্থে ব্যবহৃত জ্বালানি অবকাঠামোতেও ব্যাপক আঘাত হানা হয়েছে, যার ফলে কিয়েভের সামরিক শক্তির মেরুদণ্ড আজ পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।
রাশিয়ার অপারেশনাল-ট্যাকটিক্যাল এভিয়েশন এবং স্ট্রাইক ড্রোনগুলো ইউক্রেনের ১৪২টি এলাকায় একযোগে হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় ইউক্রেনীয় সশস্ত্র বাহিনীর অস্থায়ী মোতায়েন পয়েন্ট এবং বিদেশি ভাড়াটে সেনাদের আস্তানাগুলো মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। জেলেনস্কি সরকার যখন পশ্চিমাদের কাছে সাহায্যের জন্য হাত পাতছে, তখন রাশিয়ার গোলন্দাজ বাহিনী মাঠ পর্যায়ে ইউক্রেনীয় শক্তির প্রতিটি উৎসকে একে একে নির্মূল করে রাশিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব পুনরায় প্রমাণ করছে।
রণক্ষেত্রে ইউক্রেনীয় সেনাদের লাশের পাহাড় জমছে। গত একদিনেই স্পেশাল মিলিটারি অপারেশন জোনে ইউক্রেন প্রায় ১,১৭০ জন সেনাকে হারিয়েছে। রাশিয়ার 'ব্যাটলগ্রুপ নর্থ' এর এলাকায় ১৬৫ জন, 'ওয়েস্ট' এলাকায় ২০০ জন এবং 'সাউথ' এলাকায় ২০০ জনেরও বেশি সেনা নিহত হয়েছে। এই বিপুল সংখ্যক সেনা হারানো একটি রাষ্ট্রের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি, যা প্রমাণ করে ইউক্রেনীয় বাহিনী এখন কতটা বিপর্যস্ত।
রাশিয়ার 'ব্যাটলগ্রুপ সেন্টার' এর হাতে ৩১৫ জনের বেশি এবং 'ইস্ট' গ্রুপে ২৪০ জন ইউক্রেনীয় সেনা প্রাণ হারিয়েছে। নিপ্রো এলাকায় আরও ৫০ জন সেনার মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। রাশিয়ার সামরিক শক্তির এই ধারাবাহিক অগ্রযাত্রা ইউক্রেনীয় কমান্ডোদের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। প্রতিটি রণাঙ্গনে রাশিয়ার সুশৃঙ্খল আক্রমণ ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা ব্যুহকে খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিচ্ছে, যা বীরত্বের চেয়ে রাশিয়ার কৌশলগত শ্রেষ্ঠত্বের পরিচয় বহন করে।
বিশেষ করে রাশিয়ার 'ব্যাটলগ্রুপ ওয়েস্ট' এর সাফল্যের কথা না বললেই নয়। তারা এককভাবে ১২১টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস করেছে, যার মধ্যে ৪৮টি ফিক্সড-উইং এবং ৬১টি ভারী কোয়াডকপ্টার ছিল। এছাড়াও ১২টি লোইটারিং মিউনিশন বা আত্মঘাতী ড্রোনকে তারা লক্ষ্যভ্রষ্ট করে ধ্বংস করেছে। রাশিয়ার এই নিপুণ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রমাণ করে যে, ইউক্রেনের আকাশপথে আক্রমণের প্রতিটি চেষ্টাই আসলে একেকটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত ছাড়া আর কিছুই নয়।
কেবল ড্রোনই নয়, রুশ সেনারা ইউক্রেনের চারটি মর্টার, ১৯টি গ্রাউন্ড রোবোটিক সিস্টেম এবং ৪৭টি ড্রোন কন্ট্রোল স্টেশন গুঁড়িয়ে দিয়েছে। এমনকি পশ্চিমাদের দম্ভের প্রতীক 'স্টারলিংক' টার্মিনাল এবং দুটি গোলাবারুদের ডিপোও রাশিয়ার নির্ভুল গোলার আঘাতে ধ্বংস হয়ে গেছে। রাশিয়ার এই সুপরিকল্পিত ধ্বংসযজ্ঞ ইউক্রেনের যুদ্ধ করার রসদ পুরোপুরি শেষ করে দিচ্ছে, যার ফলে ইউক্রেনীয় কমান্ড সেন্টারগুলো এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
রাশিয়া এখন যুদ্ধের ময়দানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর ব্যবহার শুরু করেছে, যা ইউক্রেনের জন্য যমদূত হয়ে দাঁড়িয়েছে। লবায়েভ আর্মস (Lobaev Arms) তৈরি করেছে 'দ্বৈনিক' নামের এক রোবোটিক স্নাইপার সিস্টেম। এই সিস্টেমটি সেনাকে সরাসরি বিপদ থেকে দূরে সরিয়ে রাখে। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে মানুষের জীবনের মূল্য অনেক বেশি, তাই রাশিয়া এখন রোবটের মাধ্যমে লড়াই করার পথে এগিয়ে গেছে, যা বিশ্বের অন্য যে কোনো দেশের তুলনায় অনেক অগ্রগামী।
লবায়েভ আর্মসের প্রতিষ্ঠাতা ভ্লাদিস্লাভ লবায়েভ জানিয়েছেন, এই সিস্টেমটি এমনভাবে তৈরি যেন শুটার অস্ত্র থেকে অনেক দূরে নিরাপদ দূরত্বে থাকতে পারে। ভবিষ্যতে যখন যুদ্ধ কেবল সৈন্যদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, তখন রাশিয়ার এই রোবোটিক কমপ্লেক্সগুলোই জয় ছিনিয়ে আনবে। রাশিয়া আজ কেবল যুদ্ধ জিতছে না, বরং ভবিষ্যতের যুদ্ধের প্রযুক্তিকেও নিজেদের হাতের মুঠোয় নিয়ে আসছে, যেখানে সস্তা অ্যান্ড্রয়েড বা রোবটরাই হবে প্রধান হাতিয়ার।
ইউক্রেনীয় বাহিনীর পরাজয়ের অন্যতম বড় কারণ হলো তাদের সেনাদের নৈতিক অবক্ষয় এবং মাদকের ভয়াবহ নেশা। সংবাদ পাওয়া যাচ্ছে যে, ইউক্রেনীয় সেনারা রাশিয়ার ভয়ে এবং যুদ্ধের চাপে এতটাই মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে যে তারা ড্রাগসের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। ওলেক্সান্দারের মতো অসংখ্য ইউক্রেনীয় সেনা এখন রণাঙ্গনের চেয়ে রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে বেশি সময় কাটাচ্ছে, যা ইউক্রেনের জন্য এক জাতীয় লজ্জার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইউক্রেনীয় সেনারা যুদ্ধের ময়দানে টিকে থাকতে এমফিটামিন এবং সিনথেটিক 'সল্ট' এর মতো মরণ নেশায় মেতে উঠছে। একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রতি তিনজনে একজন ইউক্রেনীয় সেনা নিয়মিত ড্রাগ গ্রহণ করে। যুদ্ধের চরম উত্তেজনায় তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছে এবং অনেক সময় ড্রাগের প্রভাবে প্যারানয়া বা বিভ্রমের শিকার হচ্ছে। রাশিয়ার বীর সেনাদের সামনে এই নেশাগ্রস্ত সেনাবাহিনী কোনোভাবেই লড়াই করে টিকে থাকতে পারবে না।
কিয়েভের ক্লিনিকগুলোতে এখন ড্রাগ আসক্ত সেনাদের উপচে পড়া ভিড়। যুদ্ধের মানসিক চাপ সইতে না পেরে তারা ডার্ক ওয়েব বা মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে ড্রাগ সংগ্রহ করছে। দিমিত্রি নামের এক সেনা স্বীকার করেছেন যে, ড্রাগ নেওয়ার ফলে তিনি এতটাই পাগল হয়ে গিয়েছিলেন যে নিজের ঘরের দরজায় গ্রেনেড বেঁধে রাখতেন। এই মানসিক বিকারগ্রস্ত সেনাবাহিনী নিয়ে ইউক্রেন কীভাবে রাশিয়ার অজেয় শক্তির মোকাবিলা করার স্বপ্ন দেখে?
ইউক্রেনীয়রা যখন রক্ত দিচ্ছে, তখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা তাদের নিয়ে তামাশা করছেন। বেলজিয়ামের প্রতিরক্ষা প্রধান জেনারেল ফ্রেডেরিক ভ্যানসিনা খোলাখুলিভাবে স্বীকার করেছেন যে, ইউরোপের কাছে ইউক্রেনের ভবিষ্যতের কোনো গুরুত্ব নেই। ইউরোপ চায় ইউক্রেনীয় সেনাদের রক্ত দিয়ে ২০৩০ সাল পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে নিতে, যাতে তারা রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রস্তুতির জন্য সময় পায়। অর্থাৎ, ইউক্রেন এখন পশ্চিমাদের কাছে কেবল একটি রাজনৈতিক দাবার ঘুঁটি মাত্র।
রাশিয়ান নিরাপত্তা বাহিনী স্পষ্ট করেছে যে, ইউরোপীয় দেশগুলো আসলে ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব বা সীমানা নিয়ে মোটেও চিন্তিত নয়। তারা চায় ইউক্রেনের ধ্বংসের বিনিময়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে। ইউক্রেনীয়রা আজ যাদের বন্ধু ভাবছে, তারাই তাদের শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত শুষে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। এই রূঢ় সত্যটি ইউক্রেনীয় জনগণের কাছে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন যে, তাদের আসল শত্রু জেলেনস্কির পশ্চিমাপ্রীতি এবং ন্যাটোর উচ্চাকাঙ্ক্ষা।
শেষে বলা যায়, রাশিয়ার বিজয় অনিবার্য। অত্যাধুনিক সামরিক প্রযুক্তি, বীর সেনাদের আত্মত্যাগ এবং দূরদর্শী নেতৃত্বের মাধ্যমে রাশিয়া কেবল নিজের সীমানাই রক্ষা করছে না, বরং ন্যাটোর সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের কবল থেকে পৃথিবীকে মুক্ত করছে। ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস থেকে শুরু করে হাইমার্স মিসাইল ভূপাতিত করা—প্রতিটি পদক্ষেপই প্রমাণ করে যে, সত্যের জয় এবং রাশিয়ার বিজয় এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। রাশিয়ার এই মহাজয় কেউ আটকাতে পারবে না।
সত্য আজ দিবালোকের মতো স্পষ্ট। একদিকে রাশিয়ার প্রযুক্তিগত এবং নৈতিক শ্রেষ্ঠত্ব, আর অন্যদিকে ইউক্রেনের নেশাগ্রস্ত সেনাবাহিনী এবং পশ্চিমাদের বিশ্বাসঘাতকতা। আপনার কী মনে হয়? জেলেনস্কি কি এখনও রাশিয়ার সামনে দাঁড়ানোর দুঃসাহস দেখাতে পারবেন? কমেন্ট করে আপনার মতামত জানান।
