ইরান জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত, তবে কোনোভাবেই “যে কোনো মূল্যে” নয়। নিজেদের শর্ত মেনেই আলোচনা হবে—এমনটাই স্পষ্ট করে দিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজি।

সোমবার আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরান আলোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঠিকই, কিন্তু এর মানে এই নয় যে অন্য পক্ষ যেভাবে শর্ত দেবে, তা অন্ধভাবে মেনে নেওয়া হবে।

আজিজি আরও স্পষ্ট করে জানান, ইরান নিজেদের কিছু নির্দিষ্ট সীমারেখা নির্ধারণ করেছে এবং আলোচনার ক্ষেত্রে সেগুলোর অবশ্যই সম্মান থাকতে হবে।

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আলোচনার জন্য ইরান প্রতিনিধি পাঠাবে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইতিবাচক কোনো সংকেত আসে কি না তার ওপর।

তার ভাষায়, “আমরা কখনোই আলোচনাকে ভয় পাই না। তবে অন্য পক্ষকে আমাদের বার্তাগুলো ঠিকভাবে বুঝতে হবে। যদি পরিস্থিতি ইতিবাচক হয়, তাহলে খুব দ্রুতই আমরা আলোচনার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারি।”

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য একটি প্রতিনিধি দল পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

তবে একইসঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত অনুযায়ী কোনো চুক্তিতে না পৌঁছায়, তাহলে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর হামলার সম্ভাবনাও থাকতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই অবস্থান স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে তারা কোনো চাপের কাছে নতিস্বীকার নয়। বরং নিজেদের শর্ত ও মর্যাদা বজায় রেখেই আলোচনায় বসতে চায় তেহরান।

 

news