১.৫ বিলিয়ন ডলারের বিশাল একটি সমরচুক্তিতে সুদানের কাছে আধুনিক অস্ত্র, সমরাস্ত্র ও যুদ্ধবিমান সরবরাহ করতে যাচ্ছিল পাকিস্তান। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে সৌদি আরবের আপত্তির কারণে সেই চুক্তি স্থগিত করে দিয়েছে ইসলামাবাদ।

পাকিস্তানের দুটি নিরাপত্তা সূত্র এবং একটি কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

প্রায় তিন বছর ধরে সুদানের সেনাবাহিনী এবং র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (RSF) নামের আধাসামরিক বাহিনীর মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ চলছে। এতে দেশটিতে তৈরি হয়েছে গভীর মানবিক বিপর্যয়।

একই সঙ্গে আশঙ্কা বাড়ছে, বাইরের শক্তিগুলো নিজেদের স্বার্থে এই সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। লোহিত সাগরের তীরে অবস্থিত এই দেশটি বিশ্বের অন্যতম বড় সোনা উৎপাদনকারী দেশ হওয়ায় এর কৌশলগত গুরুত্বও অনেক বেশি।

এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে সুদান ও পাকিস্তানের মধ্যে এই চুক্তির খবর সামনে আসে, যা তখন প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে ছিল। গত বছরের মে মাসে ভারতের সঙ্গে সংঘর্ষে পাকিস্তানি যুদ্ধবিমানের সক্ষমতা আলোচনায় আসার পরই এই সমরচুক্তির পথ তৈরি হয়েছিল বলে জানা যায়।

পাকিস্তানের নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, সৌদি আরব এই প্রকল্পে অর্থায়ন না করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরই ইসলামাবাদকে চুক্তি থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দেয়। এরপরই পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়।

এই বিষয়ে সৌদি সরকার বা সুদানের সেনাবাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, কিছু পশ্চিমা দেশ সৌদিকে আফ্রিকায় প্রক্সি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছিল।

এদিকে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রকাশ্যে সুদানের চলমান সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে কথা বললেও বাস্তবে বিভিন্ন পক্ষকে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

সৌদি আরব বরাবরই সুদানের সেনাবাহিনীর পাশে থাকার ইঙ্গিত দিয়েছে। অন্যদিকে আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে আরএসএফকে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ উঠলেও তারা তা অস্বীকার করে আসছে।

 

news