মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে শক্তির ভারসাম্য নতুনভাবে গড়ে উঠছে। তুরস্কের পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান ‘কান’ উন্নয়নে সমর্থন দেওয়া এবং ভবিষ্যতে এটি কেনার ব্যাপারে সৌদি আরবের আগ্রহ ইতোমধ্যেই বড় শক্তিগুলোর মধ্যে অস্বস্তি তৈরি করেছে।

সূত্র বলছে, সৌদি আরব বিকল্প উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা খুঁজছে—যা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন কিছু আন্তর্জাতিক মহল। বিশেষ করে ২০২৫ সালে সৌদিকে উন্নত যুদ্ধবিমান সরবরাহের চুক্তির পর এই নতুন আগ্রহ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই পরিবর্তন নতুন মাত্রা পেয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান অস্থিতিশীল পরিবেশে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এখন এমন অংশীদার খুঁজছে, যারা শুধু প্রযুক্তি সরবরাহই নয়, বরং সেই প্রযুক্তি নিজেদের দেশে তৈরি করার সুযোগও দেবে।

একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে মিত্র দেশগুলোর ওপর প্রতিরক্ষা ব্যয়ের চাপ বাড়ানোর যে প্রবণতা দেখা গেছে, তা অনেক দেশকে বিকল্প পথ খুঁজতে বাধ্য করছে। ফলে আঞ্চলিক অস্ত্রবাজারেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।

বিশ্ব রাজনীতির সাম্প্রতিক পরিবর্তনের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্ব নিয়েও নতুন করে হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে। এতে করে এই অঞ্চলের দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তা কৌশলে বৈচিত্র্য আনতে বাধ্য হচ্ছে।

সৌদি আরব এখন তুরস্ক ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর দিকে ঝুঁকছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে পুরনো সম্পর্ক ছিন্ন করা হচ্ছে—বরং পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন পথ খোঁজা হচ্ছে।

তুরস্ক ও পাকিস্তান—দুই দেশই একদিকে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখছে। এই অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা চিত্র দ্রুত বদলে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া সংকট সামাল দিতে ব্যর্থতা অনেক দেশকে নতুন নিরাপত্তা অংশীদার খুঁজতে বাধ্য করছে। আর সেই কারণেই এখন আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে নতুন জোট গঠনের প্রবণতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

 

news