চুক্তিতে রাজি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের ওপর আরোপিত বন্দর অবরোধ তুলে নেওয়া হবে না—এমনই ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, এই অবরোধের কারণে ইরানের অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হচ্ছে।
সোমবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরান প্রতিদিন প্রায় ৫০ কোটি ডলার ক্ষতির মুখে পড়ছে। এতে দেশটির ভেতরে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এই বক্তব্য এমন সময় এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে। তবে পাকিস্তানে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা আদৌ হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ও যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনই আলোচনার বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে ফোনালাপে এই বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পরিস্থিতির সব দিক বিবেচনা করেই তেহরান পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানাচ্ছে, ইরান আলোচনায় আগ্রহী থাকলেও কোনোভাবেই দুর্বল অবস্থান থেকে সমঝোতায় যেতে চায় না।
এদিকে হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনাও দুই পক্ষের জন্য বড় উদ্বেগ হয়ে উঠেছে। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে যেকোনো সংঘাত বিশ্ববাজারেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
সম্প্রতি ইরানের একটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলার ঘটনায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এ ঘটনার জবাবে প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিলেও এখন পর্যন্ত কোনো সরাসরি পদক্ষেপ নেয়নি তেহরান। এর কারণ হিসেবে জানানো হয়েছে, ওইসব জাহাজে বেসামরিক মানুষ ও পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত থাকায় সংযম দেখাচ্ছে ইরান।
এদিকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, হুমকির মুখে কোনো আলোচনা মেনে নেবে না তেহরান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি ট্রাম্পের নীতির তীব্র সমালোচনা করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, অবরোধ আরোপ এবং যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের মাধ্যমে আলোচনার পরিবেশকে চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে আত্মসমর্পণের পথে নিতে চাওয়া হচ্ছে।
গালিবাফ বলেন, ইরান কখনোই হুমকির ছায়ায় আলোচনায় বসবে না। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, গত কয়েক সপ্তাহে দেশটি নতুন কৌশল ও সক্ষমতা প্রস্তুত করেছে, যা প্রয়োজন হলে সামনে আনা হবে।
