ভারত মহাসাগরে একটি ‘নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত’ তেলবাহী ট্যাংকারে অভিযান চালিয়ে সেটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে মার্কিন মেরিন সেনারা। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জলসীমায় চলাচলরত এম/টি টিফানি নামের এই জাহাজে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পেন্টাগন জানায়, ইরানের খার্গ দ্বীপ থেকে অপরিশোধিত তেল পরিবহনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে জাহাজটি মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিল। সেই কারণেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ৩৩০ মিটার দীর্ঘ এই বিশাল তেলবাহী ট্যাংকারটি তখনও সম্পূর্ণভাবে তেল বোঝাই অবস্থায় ছিল। জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত তথ্য বলছে, এটি ১৯ এপ্রিল শ্রীলঙ্কার ডনড্রা হেড অতিক্রম করে এবং ২০ এপ্রিল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জলসীমায় প্রবেশ করার পর মার্কিন মেরিন সদস্যরা এতে উঠে পড়ে। সে সময় জাহাজটির গতি ছিল প্রায় ৬ নট এবং ড্রাফট ছিল ২০ মিটার, যা ভারী বোঝাই থাকার ইঙ্গিত দেয়।

পেন্টাগনের দাবি অনুযায়ী, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে কোনো ধরনের সংঘাত বা অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই জাহাজটিতে তল্লাশি চালানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইনের ‘পরিদর্শনের অধিকার’ প্রয়োগ করেই মার্কিন বাহিনী এতে আরোহণ করে বলে জানানো হয়।

এম/টি টিফানিকে “রাষ্ট্রবিহীন নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত ট্যাংকার” হিসেবে উল্লেখ করে পেন্টাগন বলেছে, আন্তর্জাতিক জলসীমা কোনোভাবেই ইরানকে সহায়তা করা জাহাজগুলোর জন্য নিরাপদ আশ্রয় হতে পারে না। তাদের দাবি, এ ধরনের অভিযান মূলত অবৈধ সামুদ্রিক নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া এবং নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা জাহাজের চলাচল সীমিত করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।

পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, এই অভিযান ছিল নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত তেলবাহী জাহাজে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান কার্যক্রমের অংশ। ধারণা করা হচ্ছে, এম/টি টিফানি ইরানের অপরিশোধিত তেল স্থানান্তরের সঙ্গে যুক্ত ছিল।

জাহাজ-সংক্রান্ত তথ্য বলছে, অভিযানের আগের কয়েক দিন এটি ভারত মহাসাগরেই চলাচল করছিল। তবে অভিযানের পর জাহাজে থাকা ব্যক্তিদের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি।


 

news