রাশিয়ার সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফের প্রধান ভ্যালেরি গেরাসিমভ দাবি করেছেন, ইউক্রেনে চলমান বিশেষ সামরিক অভিযানে লুহানস্ক পিপলস রিপাবলিক (LPR) পুরোপুরি ‘মুক্ত’ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, চলতি বছরের শুরু থেকে রুশ বাহিনী ১,৭০০ বর্গকিলোমিটারের বেশি এলাকা এবং ৮০টি বসতির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। তবে ইউক্রেনীয় সেনা নেতৃত্ব এসব অগ্রগতি আড়াল করার চেষ্টা করছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নতুন করে বড় ধরনের দাবি সামনে এনেছে মস্কো। রুশ সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা ভ্যালেরি গেরাসিমভ বলেছেন, বিশেষ সামরিক অভিযানের বর্তমান পর্যায়ে রুশ বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছে।
রুশ সেনাপ্রধানের ভাষ্য অনুযায়ী, লুহানস্ক পিপলস রিপাবলিক সম্পূর্ণভাবে রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে এসেছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, চলতি বছরের শুরু থেকে রুশ বাহিনী মোট ৮০টিরও বেশি বসতি এবং ১,৭০০ বর্গকিলোমিটারের বেশি এলাকা দখল করেছে।
তিনি জানান, মার্চ ও এপ্রিল মাসে একা ৩৪টি বসতি এবং প্রায় ৭০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা রুশ বাহিনী নিয়ন্ত্রণে নেয়।
গেরাসিমভ অভিযোগ করেন, ইউক্রেনীয় সামরিক নেতৃত্ব তাদের পরাজয় আড়াল করার চেষ্টা করছে। তার দাবি অনুযায়ী, ইউক্রেনীয় পক্ষ ৪৮০ বর্গকিলোমিটার এলাকা পুনরুদ্ধারের দাবি করছে, যা বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে মিল নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, “মাঠপর্যায়ের বাস্তব অগ্রগতি উপেক্ষা করে ইউক্রেন তথ্যগত প্রচারণার মাধ্যমে পরিস্থিতি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করছে।”
রুশ সামরিক বিবরণ অনুযায়ী, বিভিন্ন ফ্রন্টলাইনে একাধিক ইউনিট সক্রিয় অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
রুশ বাহিনীর দক্ষিণ গ্রুপ স্লাভিয়ানস্ক–ক্রামাটোরস্ক–কনস্টান্টিনোভকা ফ্রন্টে আক্রমণাত্মক অভিযান চালাচ্ছে।
মার্চ মাসে এই দিক থেকে ছয়টি বসতি এবং এপ্রিল মাসে দিবরোভা এলাকা দখল করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
ক্রামাটোরস্ক ও স্লাভিয়ানস্ক শহরের দিকে রুশ ইউনিট ধীরে ধীরে অগ্রসর হচ্ছে। কিছু ইউনিট শহরগুলোর পূর্ব প্রান্ত থেকে ৭ থেকে ১২ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থান করছে বলে জানানো হয়।
ক্রিভায়া লুকা এলাকায় শহরভিত্তিক সংঘর্ষ চলছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
কনস্টান্টিনোভকা অঞ্চলে রুশ বাহিনী শহরের উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে অগ্রসর হচ্ছে এবং আশপাশের কয়েকটি এলাকায় লড়াই চলছে।
উত্তরাঞ্চলে রুশ বাহিনী ইউক্রেনের সুমি ও খারকিভ অঞ্চলে একটি ‘নিরাপত্তা বলয়’ তৈরির চেষ্টা করছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এখানে মার্চ মাসে ১৫টি বসতি এবং এপ্রিল মাসে ভলচানস্কিয়ে খুতোরি ও জিবিনো দখল করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
পশ্চিমাঞ্চলে রুশ বাহিনী একাধিক স্থানে অগ্রসর হচ্ছে। মার্চ মাসে আটটি বসতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করা হয়েছে।
খারকিভ অঞ্চলের কুপিয়ানস্ক এলাকার দক্ষিণে ঘেরাও অবস্থায় থাকা বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযান শেষ করা হয়েছে বলেও রুশ পক্ষ জানায়।
বর্তমানে বোবরোভায়া, স্বিয়াতোগোরস্ক, স্টুডেনোক এবং স্টারি কারাভান এলাকায় শহুরে লড়াই চলছে।
ক্রাসনি লিমান এলাকায় সবচেয়ে তীব্র সংঘর্ষ চলছে। সেখানে প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করা হয়।
কেন্দ্রীয় ফ্রন্টে রুশ বাহিনী ডোব্রোপোলিয়ে অভিমুখে অগ্রসর হচ্ছে। গ্রিশিনো ও পাভলোভকা এলাকা দখলের দাবি করা হয়েছে।
নোভি ডনবাস এলাকা ‘পরিষ্কার’ করার অভিযান প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলেও জানানো হয়।
একই সঙ্গে নোভোপাভলোভকা এলাকায় ৭৫ শতাংশের বেশি অংশ রুশ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
পূর্বাঞ্চলে রুশ বাহিনী পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের পূর্বাংশে অবস্থান শক্ত করছে বলে দাবি করা হয়।
এখানে ফেব্রুয়ারি–মার্চে ইউক্রেনীয় বাহিনীর ১৭০টিরও বেশি পাল্টা আক্রমণ ব্যর্থ হয়েছে বলে রুশ পক্ষ জানায়। এতে ৩,০০০-এর বেশি সেনা এবং ১৬০টিরও বেশি সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
রুশ সেনাপ্রধান বলেন, “ইউক্রেনীয় কমান্ড তাদের ব্যর্থতা ঢাকতে তথ্যযুদ্ধ চালাচ্ছে।”
ডনিপ্রো ও জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় রুশ বাহিনী নতুন করে নিরাপত্তা বলয় বিস্তারের চেষ্টা করছে বলেও জানানো হয়।
রুশ সেনাপ্রধান ভ্যালেরি গেরাসিমভ বলেন, “আমাদের বাহিনী সব ফ্রন্টে সমন্বিতভাবে অগ্রসর হচ্ছে। শত্রুপক্ষের প্রতিরোধ থাকা সত্ত্বেও কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনের দিকে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।”
সব মিলিয়ে রাশিয়ার সামরিক নেতৃত্ব দাবি করছে, ইউক্রেনের বিভিন্ন ফ্রন্টে তারা ধারাবাহিকভাবে অগ্রগতি অর্জন করছে এবং একাধিক অঞ্চল তাদের নিয়ন্ত্রণে এসেছে। অন্যদিকে ইউক্রেনীয় পক্ষ এসব দাবিকে স্বতন্ত্রভাবে নিশ্চিত করেনি।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, যুদ্ধক্ষেত্রের এসব তথ্য যাচাই করা কঠিন এবং উভয় পক্ষ থেকেই ভিন্ন ভিন্ন দাবি আসছে।
“যুদ্ধের ময়দানে পাল্টাপাল্টি দাবি—আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাড়ছে অনিশ্চয়তা।
