ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বাধানোর জন্য বারবার চেষ্টা চালিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সম্প্রতি এমনটাই জানিয়েছেন সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি।

কেরির দাবি, বর্তমান উত্তেজনার বহু আগে থেকেই নেতানিয়াহু একের পর এক মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ইরানে স্ট্রাইক করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু তিন প্রেসিডেন্ট—বারাক ওবামা, জর্জ ডব্লিউ বুশ ও জো বাইডেন—সেই ‘বিপজ্জনক প্রস্তাব’ ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।

কেন? কারণ তারা মনে করতেন, যুদ্ধে ঝাঁপানোর আগে শান্তির সব দরজা বন্ধ করে দেখতে হবে।

একটি আলোচনা অনুষ্ঠানে কেরি বলেন, ‘অতীতে যুদ্ধ দেখে আমরা শিখেছি, অপ্রয়োজনীয় লড়াইয়ে নামাটা বোকামি। আর ভুল তথ্য দিয়ে মানুষকে যুদ্ধের পথে ঠেলে দেওয়া জঘন্য কাজ।’

কেরির এই বক্তব্যের কিছু অংশ ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমেও প্রচার করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘ইরানে হামলা করলে সরকার বদলে যাবে—এই ধারণা কখনো বাস্তবায়িত হয়নি।’

আগের প্রেসিডেন্টরা সরাসরি ‘না’ বললেও, পরে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রাজি করাতে সক্ষম হয়েছিলেন নেতানিয়াহু। এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পকে তিনি বোঝান যে, ‘ইরানের ভেতর পরিবর্তন আনার জন্য এখনই উপযুক্ত সময়।’ আর তাতেই রাজি হয়ে যান ট্রাম্প।

সাম্প্রতিক সময়েও নেতানিয়াহুর ইরান নিয়ে অবস্থানে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। বলাই হচ্ছে, মার্কিন নেতৃত্বের ভেতরেও তার পরিকল্পনা নিয়ে অনেকে দ্বিমত পোষণ করেন। কেউ কেউ এটাকে ‘অতিরিক্ত আশাবাদী ও ঝুঁকিপূর্ণ’ বলেও আখ্যা দিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই তথ্য স্পষ্ট প্রমাণ করে—ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ উসকে দেওয়ার চেষ্টা নতুন নয়, বহুদিনের। তবে ভালো দিক হলো, আন্তর্জাতিক মহলে অনেকেই এখনো আগ্রাসী পদক্ষেপের বিরুদ্ধে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইরানকে ঘিরে বর্তমান উত্তেজনার পেছনে রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক কৌশল। আর ইরানও একেবারে পিছপা নয়—তারা ধারাবাহিকভাবে নিজেদের প্রতিরোধ শক্ত করে তুলছে।

 

news