ইরানের ওপর “অমানবিক” নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখার বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কঠোর অবস্থানকে তীব্রভাবে সমালোচনা করেছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্তকে ইউরোপের “দ্বিমুখী নীতি” বলে অভিহিত করেছে।

তাদের দাবি, এই ধরনের আচরণের কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইউরোপ দ্রুত তার গ্রহণযোগ্যতা হারাচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ইরানি সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার (২৭ এপ্রিল) বার্লিনে এক সংবাদ সম্মেলনে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন বলেন, “ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সময় এখনো আসেনি।” তার এই মন্তব্যের পরপরই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় ইরান।

সোমবার গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, মানবাধিকারের অজুহাতে নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখার এই অবস্থান “ভণ্ডামি ও লজ্জাজনক।”

বাঘাই লিখেছেন, “ইরানের ওপর ইইউ-এর নিষেধাজ্ঞাগুলো কখনোই মানবাধিকার রক্ষার জন্য ছিল না। এগুলো সাধারণ ইরানিদের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই তৈরি করা হয়েছে। এই ভুয়া নৈতিকতার নাটকে এখন আর কেউ বিশ্বাস করে না।”

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের অবস্থান ইউরোপের ভাবমূর্তি বা ভোটারদের আস্থায় কোনো ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে না।

মুখপাত্র আরও মন্তব্য করেন, “বরং এটি ইউরোপের শাসক শ্রেণির দ্বিমুখী নীতি ও ভণ্ডামিকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে এবং ইউরোপের পতনের গতি বাড়িয়ে দিচ্ছে।”

ইরানি কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরেই ইইউ-এর নিষেধাজ্ঞার কড়া সমালোচনা করে আসছেন। তাদের দাবি, এসব নিষেধাজ্ঞা মানবাধিকারের জন্য নয়, বরং এটি একটি “গণশাস্তি”—যা সাধারণ মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে পশ্চিমা শক্তিগুলোর রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য।

 

news