যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি দুই শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি হত্যার মামলায় চাঞ্চল্যকর সব তথ্য বেরিয়ে এসেছে। অভিযুক্ত রুমমেট হিশাম আবুঘরবেহ কীভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তার আগে ও পরে কী করেছিল—তা তুলে ধরেছে তদন্তকারীরা। আরও ভয়াবহ তথ্য হলো, হিশাম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চ্যাটবট ‘চ্যাটজিপিটি’তে গিয়ে জিজ্ঞাসা করেছিল, ‘লাশ কালো ময়লার ব্যাগে ভরে ডাম্পস্টারে ফেললে কী হয়?’ এবং ‘এটা কীভাবে ধরা পড়বে?’
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ফ্লোরিডার আদালত হিশামকে জামিন না দিয়ে কারাগারে আটক রাখার নির্দেশ দিয়েছে। তার বিরুদ্ধে অস্ত্রসহ পূর্বপরিকল্পিত দুটি হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
আসুন জেনে নেওয়া যাক, কোন দিনে কী ঘটেছিল—
১৬ এপ্রিল: এই দিনে শেষবার লিমন ও বৃষ্টির সঙ্গে বন্ধুদের যোগাযোগ হয়। দুপুরে বৃষ্টিকে ক্যাম্পাসে দেখা গেলেও সন্ধ্যায় একটি নির্ধারিত সাক্ষাতে তিনি যাননি। অন্যদিকে লিমনের ফোন প্রথমে বাসা ও ক্যাম্পাসে থাকলেও সন্ধ্যায় তা ক্লিয়ারওয়াটার এলাকায় দেখা যায়। একই সময় সন্দেহভাজনের গাড়িও ওই এলাকায় ছিল। রাত ১০টায় হিশামের ফোন থেকে ডোরড্যাশে আবর্জনার ব্যাগ ও ক্লিনিং সামগ্রী অর্ডার করা হয়। রাত ১টা থেকে ভোর সাড়ে ৪টার মধ্যে তাকে একাধিকবার একটি সেতু এলাকায় যাতায়াত করতে দেখা যায়।
১৭ এপ্রিল: লিমন ও বৃষ্টি নিখোঁজের খবর। হিশাম চ্যাটজিপিটিতে জিজ্ঞাসা করে, ‘হিলসবরো রিভার স্টেট পার্কে কি গাড়িতে তল্লাশি করা হয়?’ দিবাগত রাত ১টা থেকে সাড়ে ৪টার মধ্যে দুইবার হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড সেতুতে যায় সে।
২২ এপ্রিল: তদন্তকারীরা হিশামের মায়ের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন, তার ছেলে আগে রাগ নিয়ন্ত্রণে সমস্যায় ভুগত এবং পরিবারের সঙ্গেও সহিংস আচরণ করত।
২৩ এপ্রিল: দুই শিক্ষার্থীর নিখোঁজ অবস্থা ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। একটি ময়লা ফেলার স্থান থেকে রক্তমাখা কালো ফ্লোর ম্যাট, বৃষ্টির মুঠোফোনের কভার এবং লিমনের মানিব্যাগ, চশমা ও রক্তমাখা পোশাক উদ্ধার হয়। জিজ্ঞাসাবাদে হিশাম বারবার তথ্য বদলায়।
২৪ এপ্রিল: হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড সেতুর কাছে কালো আবর্জনার ব্যাগ থেকে লিমনের লাশ উদ্ধার।
২৫ এপ্রিল: হিশামের বিরুদ্ধে হত্যা ছাড়াও মৃতদেহ সরানো, প্রমাণ নষ্ট করা, আটকে রাখা ও শারীরিক লাঞ্ছনার অভিযোগ আনা হয়।
২৬ এপ্রিল: ওই সেতুর কাছ থেকে মানবদেহের আরও অংশ উদ্ধার, যা বৃষ্টির বলে ধারণা।
২৭ এপ্রিল: ফ্লোরিডা রাজ্য ওপেনএআই-এর বিরুদ্ধে চলমান তদন্তে এই হত্যাকাণ্ড অন্তর্ভুক্ত করে। ওপেনএআই জানায়, তারা পুলিশকে সর্বোচ্চ সহায়তা করবে।
২৮ এপ্রিল: আদালত হিশামকে জামিন ছাড়া কারাগারে রাখার নির্দেশ দেয় এবং নিহতদের আত্মীয় বা সাক্ষীদের সঙ্গে যোগাযোগ না করতে বলে।
