পর্দার আড়ালে আলোচনা চালু রেখে শান্তি চুক্তির দিকে এগোতে পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একে অপরের কাছে প্রস্তাব আদান-প্রদান করছে। তবে দুই পক্ষের কৌশলে স্পষ্ট বড় পার্থক্য দেখা যাচ্ছে—ইরান ধীরে-সুস্থে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে, আর যুক্তরাষ্ট্র চাইছে দ্রুত ফলাফল। ফলে দ্রুত কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো এখন কঠিন হয়ে পড়েছে।
পাকিস্তানি কর্মকর্তারা বলছেন, এই সংঘাত শুধু আঞ্চলিক ইস্যু নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতি এবং লাখো মানুষের জীবিকার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অনেক দেশের জ্বালানি আমদানির খরচ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে, যা বৈশ্বিকভাবে বড় চাপ তৈরি করছে।
ইসলামাবাদ চলমান যুদ্ধবিরতিকে একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখছে। তাদের মতে, সরাসরি বৈঠক না হলেও গোপন আলোচনার মাধ্যমেই ধীরে ধীরে অগ্রগতি সম্ভব। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই আলোচনার গতি কিছুটা কমে গেছে।
এর আগে ইসলামাবাদে উভয় পক্ষকে এক টেবিলে বসিয়ে দীর্ঘ সময়ের আলোচনা আয়োজন করা হয়েছিল, যা কূটনৈতিক দিক থেকে বড় অর্জন হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু সেই বৈঠকের পর থেকেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র—দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থান আরও কঠোর করেছে।
ইরানের দাবি, তারা চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা থেকে সরে আসে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ইরান তখনও যথেষ্ট অগ্রসর হতে প্রস্তুত ছিল না।
বর্তমানে সবচেয়ে বড় বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু হরমুজ প্রণালি এবং অবরোধ ইস্যু। যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে, অবরোধ চাপ প্রয়োগের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। আর ইরান এটিকে কেবল চাপ নয়, বরং নতুন কৌশলগত অধ্যায়ের অংশ হিসেবে দেখছে।
সব মিলিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান এখনও অনড়, আর সেই অচলাবস্থাই শান্তি আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলছে।
Iran US talks Pakistan mediation, Hormuz Strait tensions, Iran US peace negotiations, Middle East diplomacy crisis, Islamabad secret talks Iran US, oil crisis global impact, Iran sanctions dispute, US blockade strategy Iran, international conflict news, Iran foreign policy strategy, US Iran negotiations update, global energy prices war, geopolitical tensions Middle East, ceasefire Iran US conflict, breaking international diplomacy news
